বাউল গানের মঞ্চে ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেহেলী ভৈরবী।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- বাউল ও লোকসংগীতের মঞ্চে নিজের পরিচিতি তৈরি করছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেহেলী ভৈরবী। মাজার ও ওরসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করতেন এই তরুণ শিল্পী। তবে একটি অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই থেমে গেল তার সম্ভাবনাময় সংগীতজীবন।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে মারা যান পেহেলী ভৈরবী। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের মধ্যে পেহেলী ভৈরবীও রয়েছেন।
অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা এলাকার বৈরাগী বাজারে হযরত ছাবাল শাহ (রহ.)-এর মাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন পেহেলী ভৈরবী।
অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্থানীয়দের আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শেষ পোস্ট হয়ে রইল।অনুষ্ঠান শেষে শুক্রবার সকালে বাসে করে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন পেহেলী। পথে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে গুরুতর আহত হন পেহেলী ভৈরবী। পরে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাউল অঙ্গনে শোক
পেহেলী ভৈরবীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাউল ও লোকসংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহশিল্পী ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অকালমৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন এবং তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু সম্ভাবনাময় সংগীতজীবনের স্মৃতিচারণ করছেন।
শিল্পী মুন শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, জীবন কতটা অনিশ্চিত, এই দুর্ঘটনা আবারও তা নির্মমভাবে মনে করিয়ে দিল। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং গান শোনাতে দূর-দূরান্তে ছুটে বেড়ানো একজন শিল্পীর শেষ যাত্রা এমন হবে, তা কেউ ভাবেননি।
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই পেহেলী ভৈরবীর এমন করুণ বিদায়ে শোকাহত তার পরিবার, সহশিল্পী ও অসংখ্য শ্রোতা। বাউল ও লোকসংগীতের জগতে সম্ভাবনাময় এই তরুণ কণ্ঠের অকালপ্রয়াণ গভীর বেদনায় স্মরণ করছেন তার সহকর্মী ও ভক্তরা।