থানা থেকে লুট করা ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র কার কাছে, দুই শতাধিক গাড়ি কোথায়?
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: বগুড়া সদর থানা থেকে লুট হওয়া ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১৭টি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ২২টি অস্ত্রের কোনো সন্ধান মেলেনি। একই সঙ্গে…
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: ফিফা বিশ্বকাপের মাঠে ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়েছে আয়োজক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি, পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এসেছে বোমা হামলা, হত্যার হুমকি এবং অস্ত্র নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের পরিকল্পনার মতো গুরুতর হুমকি।
যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের ফাঁস হওয়া একটি নিরাপত্তা নথিতে বিশ্বকাপ চলাকালে এসব হুমকির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ইনফরমেশন ডট ইএস-এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন সময়ে স্টেডিয়াম, হোটেল, মিডিয়া সেন্টার এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে একাধিক হুমকি দেওয়া হয়। এসব হুমকির মধ্যে ছিল বোমা বিস্ফোরণ, গুলি চালানো, আত্মঘাতী হামলা এবং নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে হত্যার পরিকল্পনার কথাও।
আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের মধ্যকার ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে একটি ফোনকলের মাধ্যমে স্টেডিয়ামে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। ফোনকারী দাবি করেন, আরও দুই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন। তাদের কাছে হ্যান্ড গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেল থাকবে বলেও হুমকিতে জানানো হয়।
তবে সবচেয়ে গুরুতর হুমকিগুলোর একটি ছিল সরাসরি লিওনেল মেসিকে হত্যার হুমকি।
আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বিস্ফোরক বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন তিনি। তার কথিত লক্ষ্যও ছিল মেসি।
এরপর ম্যাচ চলাকালে পুলিশকে ফোন করে স্টেডিয়ামের গ্যালারির আবর্জনার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালায়। বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রশিক্ষিত কুকুরও মোতায়েন করা হয়।
পর্তুগালের তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকেও ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, এক সন্দেহজনক ব্যক্তি রোনালদো কোন হোটেলে অবস্থান করছেন, সেই তথ্য জানার চেষ্টা করেছিলেন।
এরপর আরও এক ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলে প্রবেশ করে তার সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে বাধা দিলে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, রোনালদোর সঙ্গে শুধু একটি ছবি বা সেলফি তুলতেই তিনি হোটেলে ঢুকেছিলেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ম্যাচ কর্মকর্তারাও অনলাইন হুমকির শিকার হন। আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ার একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের কাছ থেকে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাওয়ার কথা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ম্যাচের ভিডিও সহকারী রেফারি উইলি দেলাজোও মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সের কারণেও কয়েকজন খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সতীর্থকে পাস না দেওয়ার ঘটনায় নরওয়ের ফুটবলার আলেক্সান্ডার সরলথ এবং তার স্ত্রী মৃত্যুর হুমকি পান বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার জোন হামিন্তন কামপাজ পেনাল্টি মিস করার পর একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে জাতীয় দলের সঙ্গে দেশে ফেরার বিষয়েও তার জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়।
ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও বিশ্বকাপ চলাকালে উত্তেজনা ও বিদ্বেষের শিকার হন। ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের হারের পর দেশটির কিছু সমর্থক এমবাপ্পের নাম লেখা কুশপুত্তলিকা পোড়ায়। তাকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী স্লোগানও দেওয়া হয়।
এমনকি প্যারাগুয়ের এক সিনেটরও এমবাপ্পেকে নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় দলকেও বিশ্বকাপের সময় বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর কোচ হং মিয়ং-বোকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। তার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তাঝুঁকি শুধু স্টেডিয়াম বা খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারেও নিরাপত্তা ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল। এক ব্যক্তি হাতে রেঞ্চ নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে চিৎকার শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এরপর মিডিয়া সেন্টারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। স্থাপন করা হয় তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী। পাশাপাশি কংক্রিটের ব্যারিয়ার ও অ্যান্টি-স্নাইপার স্ক্রিন বসানো হয়।
সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ঠেকাতে নির্দিষ্ট এলাকায় নো-ফ্লাই জোন কার্যকর করা হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ সদস্য।
ফাঁস হওয়া নথির এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, দর্শক ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কতটা কঠোর ও বিস্তৃত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au