ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ফের উত্তেজনা, ককটেল উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদরাসায় ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।…
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- আমেরিকার হাত ধরে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের যে কোন রাজনৈতিক পট-পরিবর্তন ঘটাতে পারে আমেরিকা। কারণ এখানে সেনাবাহিনীর হাতেই আসলে মূলত ক্ষমতাটা থাকে। স্বাধীনতার পর সাড়ে তিন বছর কেবল বাংলাদেশ ছিল রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে। তারপর থেকে সেনাবাহিনীই ছিল ক্ষমতায়। মুস্তাক, জিয়া, এরশাদ পর্যন্ত সরাসরি সেনাবাহিনী ক্ষমতায় ছিল। ৯১ সাল থেকে আবার তথাকথিত রাজনৈতিক সরকার থাকলেও সেনাবাহিনীকে খুশি রেখেই বিএনপি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতে হয়েছে। কোন দেশে সেনাবাহিনীকে পামপট্টি দিয়ে ব্যারাকে থাকতে বলা দেশটি আমেরিকার মত সুপার পাওয়ার কোন দেশের জন্য সহজ প্লে-গ্রাউন্ড। সুপার পাওয়ার সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত ছিল এখানে সেই প্লে-গ্রাউন্ডে কঠিন বাউন্সার। এই বাউন্সারেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙে গণতন্ত্রহীনতায়। ভারত একা হয়ে পড়ে। তবু ভারত এখনো উপমহাদেশে একটা বড় ফ্যাক্ট। এটা আমেরিকা স্বীকার করে। চীন স্বীকার করে। বাংলাদেশ বহু আগেই লস্কর জইশ মুহাম্মদদের সরকার প্রতিষ্ঠা হয়ে যেতো। সেটি সম্ভব হয় না ভারতের কারণে।
এখন ভারত আমেরিকা তাদের জিও পলিটিক্সে একমত হলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এমনভাবে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবেন যে তাসনিম খলিল বাজিতে হারবেনই কেবল নয়, দেশে থাকলে জেলেও যাবেন! মানে যেসব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ফাপড়বাজ বুদ্ধিজীবী ‘গণঅভ্যুত্থানে পতিতদের ফেরার কোন ইতিহাস নেই’ বলেছেন, তারা তাদের নিজেদের ছ্যাপ নিজেরাই চেটে নিবেন। ফরহাদ মযহারসহ বাংলাদেশের বামেরা যে আমেরিকার সঙ্গে লিঁয়াজো করে চলে সেটি আমরা বারবার বললেও আপনারা বিশ্বাস করেন না। এখন ফরহাদ মযহার বলায় বিশ্বাস হলো?
জুলাইতে মার্কিন দুতাবাস আন্দোলনকারীদের জন্য সেফ হোক হয়েছিল এবং পুরো আন্দোলনে দিক-নির্দেশনা দিয়েছিল। সেনাবাহিনী তাদের হয়ে খেলেছিল। হাসিনার পতন ছিল যেন নিয়তি লিখিত। আমাদের মত দেশের ভাগ্যবিধাতা আমেরিকা। আমেরিকা সর্বশক্তিমান! তিনি বামেদের দিয়েই নিজের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়ায় আবার তাকেই রাতের শয্যাসঙ্গী করে নেয়! উপমহাদেশের বাম হচ্ছে ভ্রষ্টা!
দ্বিতীয় সূত্র হচ্ছে, ধরা যাক আমেরিকা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে চায় না। তারেক রহমানের সরকার আমেরিকার অনুগতই থাকলো। চীন এখানে সুবিধা করতে পারলো না। তখন কি হবে?
তখন কি হবে তার একটি অনুমান এরকম: শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাবে। সরকার সেই আবেদনে সাড়া দিবে না। তখন আওয়ামী লীগ বলতে পারবে আমরা আসতে চাই সরকার আসতে দেয় না। এটা একটা আন্তর্জাতিক ইস্যু হবে। দুই, সরকার আসতে দিলো আর গ্রেফতার করলো। চাইলেই তো ফাঁসি দিতে পারবে না। এটা তো সহজে হজম করে ফেলার মত কোন ব্যক্তি নয়। ফলে জেলে আটক থাকবেন শেখ হাসিনা। তাকে উদ্ধার করতে রাজনৈতিক মুক্তির জন্য তার দলের অকুতভয় কর্মীরা সারাদেশে আন্দোলনে নেমে যাবে। বড় কিছু নাম বাংলাদেশে আসতে বিমান ধরতে পারে। সরকার আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদেহীতায় পড়বে। বাংলাদেশ এমন কোন হ্যাডমওয়ালা দেশ নয় যে বিদেশী ধমক খেয়ে ভয় পাবে না। এই যে বাস্তবতা- এটাও একটা ফেরা। এর ফলাফল কেমন হবে সেটাও নির্ভর করবে সেই আন্তর্জাতিক শক্তির ইচ্ছার উপর। কিন্তু লীগের ফেরা হলো।
আরেকটা ফেরার পথ নিয়তি নির্ভর। যেমন এই সরকারকে পঁচতে দেয়ার জন্য সময় দেয়া। এই দেশ চালানোর চেয়ে মরুভূতিতে উট চালানো ভালো। ফলে যে কোন সরকার পাঁচ বছরে জনগণের কাছে গু হয়ে উঠে। বর্তমান দুর্বল নেতৃত্বের সরকারের অবস্থা তারচেয়ে খারাপ হবে। তার উপর জামাতের মত গুপ্ত ও ফ্যাসিস্ট দল ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দিয়ে এমন পরিস্থিতি করে তুলবে যেটা একটা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিবে। তখনই আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। এই ফর্মূলায় বিএনপি ১৭ বছরে ফিরেছিল এবং এসেই ক্ষমতায় গিয়ে বসেছে।
আরো একটি ফর্মূলা আছে যেটি একদম স্বাভাবিক এবং এটি ঘটনার সম্ভাবনা খুব বেশি। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া। কিন্তু শেখ হাসিনাকে ফিরতে না দেয়া। এটাও একটা ফেরা। এবং খুবই ভালোভাবে ফেরা। আমার ধারণা এটা ঘটলে আওয়ামী লীগ খুশী থাকবে। এই রকম ঘটার সম্ভাবনা থাকছেই।
আপাতত এই রকমই দেখছি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ফেরার বিষয়ে। কিন্তু রাজনীতি কখনো কখনো গল্পকে হার মানিয়ে দেয়। দেখবেন আমাদের সকলের কল্পনার বাইরে এমন এক গল্পে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ফিরবে যে পশ্চিমের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপকরা তাদের বইতে এর উদাহরণ উল্লেখ করবেন!
লেখক- সুষুপ্ত পাঠক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au