ভারত থেকে ২.৩ টন কাঁদানে গ্যাস আমদানি করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁদানে গ্যাসের শেল আমদানি করা হয়েছে। সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে…
মেলবোর্ন,৯ আগষ্ট: হাঙরকে সাধারণত সমুদ্রের অন্যতম ভয়ংকর শিকারি প্রাণী হিসেবেই দেখা হয়। তবে এবার সেই হাঙরই হয়ে উঠতে পারে হারিকেনের পূর্বাভাসের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা হাঙরের শরীরে বিশেষ সেন্সর সংযুক্ত করে সমুদ্রের তথ্য সংগ্রহ করছেন। তাঁদের লক্ষ্য, এসব তথ্য ব্যবহার করে উপকূলে আঘাত হানতে যাওয়া হারিকেনের তীব্রতা আরও নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া।
গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখছেন, হাঙরগুলো চলমান প্রায়-রিয়েল-টাইম সমুদ্র পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারে কি না। এ জন্য হাঙরের শরীরে সিটিডি ট্যাগ নামে ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র সংযুক্ত করা হচ্ছে। এসব ট্যাগ সমুদ্রের তাপমাত্রা, গভীরতা ও লবণাক্ততার সঙ্গে সম্পর্কিত বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা পরিমাপ করে।
ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড পলিসির অধ্যাপক ও গবেষণাটির প্রধান গবেষক অ্যারন কার্লাইল বলেন, প্রাণীর শরীরে সংযুক্ত সেন্সর ব্যবহার করে সমুদ্রের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নতুন নয়। বিশেষ করে মেরু অঞ্চলে হাতি সিলের মতো প্রাণীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে হাঙর এই গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
গবেষকদের মতে, হাঙর অনেক দূর পর্যন্ত বিচরণ করে এবং বিভিন্ন গভীরতায় সাঁতার কাটে। ফলে সমুদ্রের বিস্তৃত এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহে তাদের ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। এর আগে হাঙরের শরীরে ট্যাগ ব্যবহার করে মূলত তাদের চলাচল ও আবাসস্থল পর্যবেক্ষণ করা হতো।
হারিকেন গবেষণার জন্য গবেষকেরা এমন হাঙর বেছে নিচ্ছেন, যেগুলো নিয়মিত সমুদ্রের ওপরের স্তরে উঠে আসে। কারণ এতে তাদের শরীরে থাকা সেন্সর থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো সহজ হয়। শর্টফিন মাকো, ব্লু শার্ক, স্মুথ হ্যামারহেড এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক গ্রেট হোয়াইট শার্ককে এ ধরনের গবেষণার সম্ভাব্য প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকদের মূল আগ্রহ সমুদ্রের ওপরের স্তরের তাপমাত্রা বা ‘মিশ্র স্তর’-এর তথ্য সংগ্রহে। সমুদ্রের এই তাপমাত্রা হারিকেনের শক্তি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সমুদ্রের ওপরের স্তর থেকে সরাসরি পাওয়া তথ্য ঝড়ের পূর্বাভাস আরও উন্নত করতে পারে।
হাঙরের শরীরে সেন্সর সংযুক্ত করার কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। গবেষক কার্লাইলের ভাষায়, পুরো প্রক্রিয়াটি গাড়ি দৌড়ের সময় পিট ক্রুর দ্রুত কাজ করার মতো। সাধারণত পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ে ট্যাগ লাগানোর কাজ শেষ করা হয়। হাঙরের স্বাভাবিক আচরণ ও স্বাস্থ্যের ওপর যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়।
ট্যাগগুলো এমন উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়, যা সময়ের সঙ্গে ক্ষয়ে গিয়ে নিজে থেকেই হাঙরের শরীর থেকে খুলে পড়ে। সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়ার আগে প্রতিটি হাঙরের স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদের মতে, অসুস্থ বা আহত হাঙর স্বাভাবিকভাবে চলাচল না করলে সংগৃহীত তথ্যও নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে।
গবেষকদের আশা, প্রকল্পটি সফল হলে হাঙরের মাধ্যমে সংগৃহীত সমুদ্রের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে যাওয়া হারিকেন ও অন্যান্য সামুদ্রিক ঝড়ের পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে ম্যাসাচুসেটস পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঝড়ের সম্ভাব্য তীব্রতা সম্পর্কে আগাম তথ্য দিতে এই প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে।
গবেষকেরা মনে করেন, সিনেমায় হাঙরকে যেভাবে ভয়ংকর ও অতিরঞ্জিত প্রাণী হিসেবে দেখানো হয়, বাস্তবে তাদের ভূমিকা তার চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। সমুদ্রের পরিবেশের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়া এই প্রাণীদের ব্যবহার করে মানুষের উপকারে আসা গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলে তা একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্যও ইতিবাচক হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au