ভারত থেকে ২.৩ টন কাঁদানে গ্যাস আমদানি করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁদানে গ্যাসের শেল আমদানি করা হয়েছে। সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে…
মেলবোর্ন, ৯ আগস্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন জনপ্রিয় গানের দল ‘জলের গান’-এর সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রী রাহুল আনন্দ। বর্তমানে সপরিবারে ফ্রান্সে বসবাসরত এই শিল্পী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে তাঁর বাড়ি ও স্টুডিওতে হামলার পর স্ত্রী চিত্রশিল্পী উর্মিলা শুক্লা ও ১৩ বছরের ছেলে তোতাকে নিয়ে এক কাপড়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। পরে যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, ৭ আগস্ট সেই বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘৭ আগস্ট’ শিরোনামে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করেন রাহুল আনন্দ। তিনি জানান, প্রথমবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কোথাও আশ্রয় পাচ্ছিলেন না। ভয় ও দ্বিধার কারণে অনেকেই তাঁদের আশ্রয় দিতে চাইছিলেন না।
রাহুল লেখেন, ৫ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে এক বন্ধু তাঁদের নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। কিন্তু সেই আশ্রয়ও দুই দিন স্থায়ী হয়নি। ৭ আগস্ট ওই ভবনের নিচের কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভবনের দ্বিতীয় তলা ও গ্যারেজে থাকা দুটি গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাঁরা তখন ছিলেন তৃতীয় তলায়।
সেই সময়ের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে রাহুল জানান, আগুনের তাপে মেঝে এতটাই গরম হয়ে উঠেছিল যে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল ঘন কালো ধোঁয়া। তাঁর ভাষায়, সেদিন তিনি বুঝেছিলেন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ‘দৈত্যের’ নাম ধোঁয়া।
রাহুল বলেন, ধোঁয়ার কারণে তাঁর ১৩ বছরের ছেলে নীল হয়ে যাচ্ছিল। শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে ধোঁয়া শরীরে ঢুকে শ্বাসনালি পুড়িয়ে দিচ্ছিল এবং ভেতরে তীব্র জ্বালা অনুভূত হচ্ছিল। বন্ধুর মেয়ের সাহস ও সহযোগিতায় তাঁরা অলৌকিক ভাবে সেদিন বেঁচে যান বলে জানান তিনি।
সেই রাতের আরও একটি মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে রাহুল জানান, আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে তাঁর স্ত্রী উর্মিলা অসহায় হয়ে বলছিলেন, ‘রাহুল, আমি আর পারছি না।’ পরে কয়েকজন বন্ধু তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে অন্য একটি আশ্রয়ে নিয়ে যান।
রাহুল জানান, এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁরা নবম আশ্রয়ে রয়েছেন। নিজের স্থায়ী ঘর আর বাঁধা হয়নি। ঘুরে বেড়ানোর সেই জীবনকে তিনি বাউলের মতো পৃথিবী দেখার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এবারই প্রথম সেই কঠিন সময়ের বিস্তারিত অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন রাহুল আনন্দ। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও লিখবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিজের পোস্টে তিনি বলেন, যা লিখবেন সত্য লিখবেন এবং এতে অনেকের কাছে অপ্রিয় হলেও সত্য প্রকাশের দায় এড়াবেন না।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ‘জলের গান’-এর সদস্যদের নিয়ে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাহুল আনন্দ। পরে ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের কাছে তাঁর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর বসতবাড়ির পাশাপাশি সংগ্রহে থাকা হাজার হাজার হস্তনির্মিত বাদ্যযন্ত্র পুড়ে যায়।
২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঢাকা সফরের সময় রাহুল আনন্দের ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। একসময় সাংস্কৃতিক আড্ডা ও বাদ্যযন্ত্রের সংগ্রহে ভরা সেই বাড়ি এখন আগুনের ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au