ইতালির বিমানবন্দরে ৩০-৪০ ঘণ্টা নির্ঘুম বাংলাদেশি যাত্রীরা
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট- ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আড়াই শতাধিক যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। টরন্টো থেকে রোম হয়ে…
মেলবোর্ন,৯ আগষ্ট: ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে গুগলের পরিকল্পিত ১৫ বিলিয়ন ডলারের ডেটাসেন্টার প্রকল্প নির্মাণ ঘিরে পরিবেশগত উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পানি সরবরাহ, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও নির্মাণ কাজের শব্দ দূষণ নিয়ে পরিবেশবাদীদের আপত্তির পাশাপাশি প্রকল্পটি একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে।
দক্ষিণ ভারতের বিশাখাপট্টনম শহরের কাছে নির্মাণাধীন এই ডেটাসেন্টার হাবকে ভারতে গুগলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পস্থলে পাহাড়ের ঢাল কেটে লাল মাটির বিস্তীর্ণ অংশ উন্মুক্ত করে ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য পানির ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিশাখাপট্টনমের জলাধার ও নদীগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪১০ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। বিপরীতে শহরটির দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন লিটার। প্রায় ২৫ লাখ মানুষের এই শহরে পানির রেশনিং বা নিয়ন্ত্রিত সরবরাহও নিয়মিত ঘটনা। এ অবস্থায় পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, ডেটাসেন্টার চালু হলে পানি সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশাখাপট্টনমে পরিবেশকর্মী ও শিশুরা বিক্ষোভ করেছে। তাদের হাতে ‘আমরা ডেটা পান করতে পারি না’ লেখা ব্যানারও দেখা গেছে।
অলাভজনক সংগঠন গ্রিন বিশাখার প্রতিষ্ঠাতা রাজা রামা মোহন রায় বলেন, মানুষের জীবিকা বিসর্জন দিয়ে উন্নয়ন হওয়া উচিত নয়। তাঁর দাবি, শহরটি এমনিতেই পানির সংকটে রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ডেটাসেন্টারের জন্য পানি সরবরাহের সরকারি প্রতিশ্রুতি উদ্বেগের কারণ।
প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে অন্ধ্র প্রদেশ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও হয়েছে। জল বিরাদারি বা ‘ওয়াটার কমিউনিটি’ নামে একটি সংগঠন অভিযোগ করেছে, কাছাকাছি একটি জলাধারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে প্রকল্পটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সংকটে ফেলতে পারে। আগামী ২৪ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে হিউম্যান রাইটস ফোরাম প্রকল্পটির বিরুদ্ধে পরিবেশবিষয়ক আদালতে আরও তিনটি মামলা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, গ্রামীণ সুপেয় পানির প্রকল্প থেকে পানি নেওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে অন্ধ্র প্রদেশ সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, ডেটাসেন্টারের জন্য গ্রামীণ বা আবাসিক ব্যবহারের পানি নেওয়া হবে না এবং কাছাকাছি জলাধারটিও ব্যবহার করা হবে না। পরিবেশবাদীদের উদ্বেগকে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ উল্লেখ করলেও সরকার জানিয়েছে, বৈধ কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুগল জানিয়েছে, প্রকল্পটি সব প্রযোজ্য আইন মেনেই নির্মাণ করা হবে। স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ পানিসম্পদ রক্ষায় উন্নত এয়ার কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুধু পানিই নয়, বন্য প্রাণী ও শব্দদূষণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রকল্পস্থল থেকে প্রায় ৮৬০ মিটার দূরে কাম্বালাকোন্ডা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য অবস্থিত। সেখানে চিতাবাঘ ও বনরুইসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, ভারী নির্মাণকাজ ও শব্দদূষণ এসব প্রাণীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে গুগল জানিয়েছে, নির্মাণকাজের শব্দ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তারা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে চায়।
গুগল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির নেতৃত্বাধীন আদানি গ্রুপের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে। প্রকল্পটি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৮ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়েই বর্তমানে ডেটাসেন্টার নির্মাণ নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগ বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের প্রসারের কারণে ডেটাসেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এসব স্থাপনা পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি প্রয়োজন হয়। ফলে পানি সংকটপ্রবণ অঞ্চলে নতুন ডেটাসেন্টার নির্মাণ নিয়ে পরিবেশগত ও সামাজিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে।
বিশাখাপট্টনমে গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি তাই একদিকে বিপুল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, অন্যদিকে পানি ও পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নও সামনে এনেছে। প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au