বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁদানে গ্যাসের শেল আমদানি করা হয়েছে। সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে নর্থইস্ট নিউজ। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় চালানটি যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যশোর সেনানিবাসে নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজের (বিওএফ) জন্য মোট ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন কাঁদানে গ্যাসের শেল আমদানি করা হয়েছে। ভারতের নারেন্দ্র এক্সপ্লোসিভস লিমিটেড থেকে পাঠানো এই চালানে ১৪৫টি কাঠের বাক্স রয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্র জানায়, চালানটি বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত শুল্ক ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তা ছাড় করা হয়। এরপর একটি কাভার্ড ভ্যানে করে চালানটি যশোর সেনানিবাসে পাঠানো হয়। ব্যবহৃত গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-না-১৯-৩৭৫৩।
চালানটির নিরাপত্তায় বেনাপোল থেকে শার্শা পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পরে শার্শা থেকে যশোর সেনানিবাস পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল।
সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যশোর সেনানিবাসে সংরক্ষণের পর আগামী ৯ আগস্ট চালানটি ঢাকায় পাঠানোর কথা রয়েছে।
কাঁদানে গ্যাস সাধারণত দাঙ্গা, সহিংস বিক্ষোভ ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যবহার করে থাকে। এ কারণে সেনাবাহিনীর জন্য এত বড় পরিমাণ কাঁদানে গ্যাস জরুরি ভিত্তিতে আমদানির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি আরও বাড়তে যাচ্ছে।
বন্দর সূত্রের দাবি, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে কাঁদানে গ্যাসের শেল আমদানির ঘটনা এটিই প্রথম। তবে চালানটি কোন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বা কী সময়সীমার জন্য ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সম্ভাব্য সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই আমদানি করা হয়েছে। তবে কাঁদানে গ্যাসের চালান আমদানির সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সম্ভাব্য সহিংসতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সেনাবাহিনী সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও তাদের মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে সেনাবাহিনীর জন্য কাঁদানে গ্যাসের মতো জননিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম আমদানির ঘটনা তাদের ভবিষ্যৎ আইনশৃঙ্খলা দায়িত্বের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে।
এদিকে ২ দশমিক ৩ টন কাঁদানে গ্যাসের চালানটি ভারত থেকে সরাসরি আমদানি এবং কঠোর নিরাপত্তায় যশোর সেনানিবাসে নেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এসব সরঞ্জাম নিয়মিত মজুতের অংশ হিসেবে আনা হয়েছে, নাকি আসন্ন কোনো বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে আমদানি করা হয়েছে।