‘মার্কিন সেফ হাউজে সমন্বয়কদের মগজধোলাই হয়েছে’, কী বলতে চেয়েছেন ফরহাদ মজহার
মেলবোর্ন, ৯ আগস্ট: জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিদেশি দূতাবাসের আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।…
মেলবোর্ন, ৯ আগস্ট: সিডনিতে প্রবাসী বাঙালিদের মুগ্ধ করার পর এবার মেলবোর্ন মাতালেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার মঞ্চে ফিরে গতকাল শনিবার, ৮ আগস্ট মেলবোর্নে সংগীত পরিবেশন করেন নন্দিত এই শিল্পী।
রুনা লায়লার কালজয়ী গান সরাসরি শুনতে অনুষ্ঠানে জড়ো হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ও সংগীতপ্রেমী। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি এবং একের পর এক জনপ্রিয় গানের পরিবেশনায় দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। প্রতিটি গানের পর করতালি, উল্লাস ও ভালোবাসায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
সংগীতজীবনের ৬২ বছর পূর্ণ করেছেন রুনা লায়লা। তাঁর এই দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংগীতযাত্রা উদ্যাপনের অংশ হিসেবেই অস্ট্রেলিয়ার দুই প্রধান শহর—সিডনি ও মেলবোর্নে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। বয়সকে হার মানিয়ে তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা আবারও প্রমাণ করেছে, কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তিনি আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।
এর আগে ১ আগস্ট সিডনির নরওয়েস্ট কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশ নাইট’ শিরোনামের কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেছিলেন রুনা লায়লা। ‘লিসেন ফর’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেই অনুষ্ঠানে তাঁকে একনজর দেখতে এবং সরাসরি তাঁর গান শুনতে সমবেত হয়েছিলেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি। অনুষ্ঠানটি সিডনির বাঙালি সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
সিডনির অনুষ্ঠানে সবার শেষে মঞ্চে উঠেছিলেন রুনা লায়লা। তিনি মঞ্চে আসতেই দর্শকেরা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। এরপর ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’, ‘যখন থামবে কোলাহল’ এবং ‘বন্ধু তিন দিন তোর বাড়িতে গেলাম, দেখা পাইলাম না’সহ নিজের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি।
বিশেষ করে ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ পরিবেশনের সময় রুনা লায়লার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন দর্শকেরাও। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন সাত সদস্যের একটি যন্ত্রীদল। প্রতিটি পরিবেশনার পর দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল পুরো মিলনায়তন।
সিডনির আয়োজনে রুনা লায়লা ও বেঙ্গল সিম্ফনির পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেছিলেন পিন্টু ঘোষ। বৈচিত্র্যময় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রবাসী দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেছিল স্মরণীয় এক সন্ধ্যা।
এর আগে ২০০৭ সালে সিডনি অপেরা হাউসে একক সংগীতানুষ্ঠান করেছিলেন রুনা লায়লা। পরে ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত ‘প্রবাস পরবনী বেঙ্গল সাংস্কৃতিক উৎসব’-এ অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর এবারের অস্ট্রেলিয়া সফর তাই প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আবেগ ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছিল।
সিডনির পর মেলবোর্নের মঞ্চেও দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রুনা লায়লা আরও একবার দেখিয়ে দিলেন—ছয় দশকের বেশি সময় পেরিয়েও তাঁর গান, কণ্ঠের আবেদন এবং মঞ্চের জাদু আজও অমলিন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au