‘মার্কিন সেফ হাউজে সমন্বয়কদের মগজধোলাই হয়েছে’, কী বলতে চেয়েছেন ফরহাদ মজহার
মেলবোর্ন, ৯ আগস্ট: জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিদেশি দূতাবাসের আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।…
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবারের এই ফোনালাপে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই আলোচনা হলো।
ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও গভীর করার উপায় নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।
এ সময় জেডি ভ্যান্স ও তার স্ত্রীকে পুত্রসন্তান জন্মের জন্য অভিনন্দন জানান নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি ভ্যান্সের পরিবারকে শুভকামনাও জানান তিনি।
মোদি ও ভ্যান্সের এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো, যখন রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির মতপার্থক্য বাড়ছে। রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে। বিলটি কার্যকর হলে রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতও সম্ভাব্যভাবে এই ব্যবস্থার প্রভাবের আওতায় পড়তে পারে।
তবে সিনেটে পাস হওয়া বিলটি কার্যকর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন পেতে হবে। ফলে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনে ভারত। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
মোদি ও ভ্যান্সের আলোচনায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে পৌঁছেছিল। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির পথ তৈরি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়।
জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তিন থেকে চার মাসের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে তৈরি হওয়া মতপার্থক্য এই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বাজারে প্রবেশাধিকার, আমদানি-রপ্তানি শুল্ক এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা এখন দুই দেশের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ভারতের একটি সংসদীয় কমিটিও দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার পাশাপাশি সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক ব্যবস্থার প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য দেশটির সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে।
বাণিজ্যের বাইরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র রয়েছে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ কাজ করছে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে অভিহিত করে থাকে। এই অংশীদারত্বের আওতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, জ্বালানি, অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের সমন্বয় রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির ফোনালাপকে দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়া এবং অন্যদিকে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলা করে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই এখন নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au