সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের গ্রেপ্তার, যা বললেন নীলা চৌধুরী. ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খলনায়ক ডন হক গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়।
ডনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নীলা চৌধুরী বলেন, ‘সালমান আমার সন্তান। সে আমার বুকের মধ্যে আছে, থাকবে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর সালমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল এই ডন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালমানের মৃত্যুর পর ডন তাকে বিভিন্নভাবে অপমান করেছেন এবং তাঁর ছেলেকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। ডনের গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করে নীলা চৌধুরী বলেন, সব প্রমাণ একদিন সামনে আসবে।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা ও বর্তমান সরকারের প্রতি আমার আস্থা আছে। সালমান হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হোক। আশা করি, আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার একদিন পাব।’
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য আদালত সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। সেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমানের বাবা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।
এর পরদিন, ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম হত্যা মামলা করেন। এতে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ ফরহাদ। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর বাবা-মা ও ছোট ভাই নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। দ্রুত বাসায় ফিরে তাঁরা সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মামলার অভিযোগে সালমানের শরীরে গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২০ মে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের আবেদন করা হয়। পরে ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। তবে বাদীপক্ষ ওই আদেশ বাতিলের আবেদন করলে তা নথিভুক্ত করেন আদালত।
পরবর্তী সময়ে ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রায় তিন দশক পর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত এগিয়ে চলছে। মামলার অন্যতম আসামি ডনের গ্রেপ্তারকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।