বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীন মোহাম্মদ মালয়েশিয়ায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর কর্মস্থলের বাংলাদেশি মালিক ও সহকর্মীরাও স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যাতে অন্তত কেউ তাঁর মরদেহ গ্রহণ করতে পারেন।
কর্মস্থল সূত্রে জানা গেছে, দীন মোহাম্মদ প্রায় ২০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবার নাম আব্দুল হক এবং মায়ের নাম সুক্কুরের নেসা। স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রাজা বাড়ি, কুমিল্লা সদর, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা। তাঁর জন্ম ১৯৭৫ সালের ২ মার্চ। দীন মোহাম্মদের কর্মস্থলের বাংলাদেশি সুপারভাইজার মো. মোস্তফা আহমদ জানান, মৃত্যুর মাত্র ১৯ দিন আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।
মোস্তফা আহমদ বলেন, ২৫ জুলাই রাতে দীন মোহাম্মদ কর্মস্থলের থাকার জায়গায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাতে গোসলখানায় গেলে ভোরে অন্যরা তাঁকে সেখানে পড়ে থাকতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পাসপোর্টে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও তাঁর পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। কর্মস্থলের পক্ষ থেকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ মিশন, পাসপোর্টে উল্লেখ করা ঠিকানার কুমিল্লার উপজেলা প্রশাসন এবং ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দীন মোহাম্মদের কোনো স্বজনের সন্ধান মেলেনি।
এদিকে মালয়েশিয়ার হাসপাতাল ও পুলিশ দ্রুত মরদেহটি নেওয়ার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। পাসপোর্টে উল্লেখ করা কুমিল্লার এলাকার চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিনও জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে খোঁজ করেও দীন মোহাম্মদ নামের ওই ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীন মোহাম্মদের মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছেন। তাঁর স্বজন বা অভিভাবক খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, স্বজনের সন্ধান পাওয়া গেলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত কোনো স্বজন বা অভিভাবকের সন্ধান না পাওয়া গেলে দীন মোহাম্মদের মরদেহ মালয়েশিয়াতেই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ভাবেই স্বজনের সন্ধান পাওয়া না গেলে মরদেহ গ্রহণের জন্য কাউকে না কাউকে পাওয়া প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত কাউকে পাওয়া না গেলে কর্তৃপক্ষকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে।