হঠাৎ কী বার্তা নিয়ে দিল্লি গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী?
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্টঃ এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের তিন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করে নয়াদিল্লি গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্টঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ৯ আগস্ট ৮৬ বছরে পা দিয়েছেন। দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জীবনে নাটক, অভিনয়, সংগঠন ও সম্পাদনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই নাট্যজন বলছেন, জীবন যত ফুরিয়ে আসছে, বাঁচার আকাঙ্ক্ষা ততই তীব্র হচ্ছে। তবে সেই আকাঙ্ক্ষা নিজের জন্য নয়, স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনির জন্য।
নাট্যদল থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রামেন্দু মজুমদার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্পাদনা করছেন ‘থিয়েটার’ পত্রিকা। তিনি ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এখনো ‘লাভ লেটার’ ও ‘মেরাজ ফকিরের মা’ নাটকে অভিনয় করছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার এবং একমাত্র মেয়ে ত্রপা মজুমদারও নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত।
৮৬ বছরে পা দেওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে এক সাক্ষাৎকারে রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘জীবন যখন শেষ হয়ে আসছে তখন মনে হয়, জীবন এত সুন্দর! আরও কেন জীবন উপভোগ করতে পারলাম না।’
তবে নিজের জীবন নিয়ে তাঁর কোনো অতৃপ্তি নেই। তিনি বলেন, ‘গরুর গাড়িতে যেমন চড়েছি, বিমানেও চড়েছি। একজীবনে অনেক পথ পাড়ি দিয়েছি। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। শিল্প নিয়ে অতৃপ্তি আছে, কিন্তু জীবন নিয়ে নেই।’
শিল্প নিয়ে তাঁর অতৃপ্তির জায়গাটিও স্পষ্ট। রামেন্দু মজুমদার বলেন, এখনো তেমন ভালো কোনো নাটক করতে পারেননি বলে তাঁর মনে হয়। থিয়েটার স্কুল নিয়ে লড়াই করছেন, কিন্তু স্থায়ী জায়গা বা মহড়ার স্থান নেই। তবে এসব ব্যর্থতার মধ্যেও শিল্পের প্রতি তাঁর আকাঙ্ক্ষা অটুট।
৮৫ বছর পার করার পর এখন কী ভাবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জীবন যত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা আরও বেশি তীব্র হচ্ছে।’ আগে ৮০ বছর বাঁচলেই যথেষ্ট মনে হলেও এখন আরও বাঁচতে চান তিনি। তবে নিজের জন্য নয়, পরিবারের জন্য। ‘মনে হয় আমি না থাকলে ওরা স্বজনহীন হয়ে যাবে। তাই আরও বাঁচতে ইচ্ছে করে,’ বলেন রামেন্দু মজুমদার।
ছোটবেলা থেকেই শিল্পের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন রামেন্দু মজুমদার। তাঁর বাবা, বড় ভাই ও ছোট বোন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নাটকের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা আরও গভীর হয়। একপর্যায়ে মনে হয়, শিল্পী হিসেবে নিজের ভাবনা প্রকাশের সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম নাটক। সেখান থেকেই নাটকের পথ বেছে নেন তিনি। স্বাধীনতার পর নাট্যদল থিয়েটার প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণ করে রামেন্দু মজুমদার জানান, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশে নাটকের দল করার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কবীর চৌধুরীর অফিসে বসে থিয়েটার প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। ওই বছরই ‘থিয়েটার’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
পাঁচ দশকের বেশি সময়ের পথচলায় থিয়েটারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে সাধারণ দর্শকদের নাটকের সঙ্গে যুক্ত করাকে দেখেন তিনি। জীবনঘনিষ্ঠ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নাটক করা, মুক্তিযুদ্ধ, তারুণ্য ও নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়কে নাটকে তুলে ধরা ছিল দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ ও কলকাতার থিয়েটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের নাট্যচর্চার সরাসরি তুলনা করা কঠিন। কলকাতার থিয়েটারের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের হলেও বাংলাদেশের অভিনয়ে স্বতঃস্ফূর্ততা রয়েছে। ভাষা ও সংস্কৃতির মিল থাকায় দুই দেশের মধ্যে নাটক ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কাছে সাংস্কৃতিক সংকটের সময় বড় আশ্রয়। দীর্ঘ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথচলায় নানা সময়ে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির কাছে ফিরে গেছেন তিনি। একই সঙ্গে সৈয়দ শামসুল হক ও প্রয়াত নাট্যজন আতাউর রহমানের অবদানও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বর্তমান তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী রামেন্দু মজুমদার। তাঁর মতে, তরুণদের মধ্যে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে। সঠিকভাবে সেই প্রতিভাকে কাজে লাগানো গেলে অনেক কিছুই সম্ভব। তবে দ্রুত সবকিছু পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে তাঁর কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের সীমাহীন মন্তব্য ও চরিত্রহননের প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার নামে কাউকে অপমান বা চরিত্রহনন করা গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষকদের লাঞ্ছনার ঘটনাগুলোও তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
একটি দেশের জন্য শিল্প-সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে রামেন্দু মজুমদার বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছাড়া বাঙালি জাতির এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে গান, নাটক, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
খ্যাতিমান মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাফল্যও তাঁকে আনন্দ দেয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনে দীর্ঘ ১২-১৩ বছর সাধারণ মানুষের জীবন ও কাজ নিয়ে অনুষ্ঠান করেছেন তিনি। প্রায় ৪০০ মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যাঁরা নিজেদের প্রচারের জন্য নয়, সমাজের জন্য ভালো কিছু করার উদ্দেশ্যে কাজ করেছেন। মঞ্চে এখনো অভিনয় করলেও টেলিভিশন নাটকে তাঁকে তুলনামূলক কম দেখা যায়। এর পেছনে সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ব্যস্ততাকেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে ‘মেরাজ ফকিরের মা’ ও ‘লাভ লেটার’ নাটকে অভিনয় করছেন। ‘লাভ লেটার’ নির্দেশনা দিচ্ছেন তাঁর মেয়ে ত্রপা মজুমদার।
দীর্ঘ জীবনে স্ত্রী ফেরদৌসী মজুমদারের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন রামেন্দু মজুমদার। তিনি বলেন, বাইরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এত দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারার পেছনে তাঁর স্ত্রীর বড় ভূমিকা রয়েছে। ঘর ও সন্তান সামলানোর পাশাপাশি শিল্পের জগতেও তাঁরা পাশাপাশি থেকেছেন।
মেয়ে ত্রপাও একই পথে হাঁটছেন। নাটক ও শিল্পের প্রতি তাঁর মেয়ের আন্তরিকতা দেখে গর্বিত রামেন্দু মজুমদার।
জীবনের দীর্ঘ পথচলা ফিরে দেখে তাঁর উপলব্ধি-শিল্প নিয়ে অপূর্ণতা থাকলেও পরিবার, কাজ ও মানুষের ভালোবাসায় তাঁর জীবন অনেকটাই পূর্ণ।
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্টঃ এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের তিন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করে নয়াদিল্লি গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্টঃ চীনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক এখনো ভঙ্গুর এবং বিভিন্ন আকস্মিক ঘটনায় তা আবারও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চীনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট- উত্তরায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রলপাম্পের কর্মীদের কাছ থেকে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট- দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্টঃ ওপেন সোর্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ওপর বিধিনিষেধ কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত কম্পিউটারেও…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কাছ থেকে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার…
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au



