হঠাৎ কী বার্তা নিয়ে দিল্লি গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী?
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্টঃ এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের তিন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করে নয়াদিল্লি গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট- নরসিংদীর পলাশে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের জেরে হামলায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম মারা গেছেন। নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ইব্রাহিম আল মাসুম পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের মমিন হাজীর ছেলে। তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট রাতে ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা ফকিরবাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হন মাসুম। এ সময় ডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফকিরবাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানির সঙ্গে মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরেই গত ১ আগস্ট রাতে হাসনহাটা ফকিরবাড়ি এলাকার একটি মুদি দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সময় মাসুম, মামুন, জয়নালসহ কয়েকজন দোকানটিতে অবস্থান করছিলেন। একদল লোক সেখানে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করে। এতে মাসুম গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত মাসুমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষের বিরোধের সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। বিএনপির সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি ভিপি রোমান গ্রুপের সঙ্গে ইব্রাহিম আল মাসুমের পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় পলাশ থানায় একটি মামলাও রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় রোমান গ্রুপের পক্ষ থেকে অপর পক্ষকে আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। পরে হাসনহাটা ফকিরবাড়ি এলাকার মুদি দোকানে মাসুম, মামুন ও জয়নালসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাসুমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে কোনো সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
এ ঘটনায় মাসুমের বোনজামাই হাসান মো. মহসিন বাদী হয়ে গত ৪ আগস্ট পলাশ থানায় মামলা করেন। মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, হামলার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। মাসুমের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই উত্তপ্ত না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au