মালয়েশিয়ায় বড় অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশি আটক। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ আগস্ট: মালয়েশিয়ায় দুই দিনব্যাপী বড় ধরনের অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ ১ হাজার ৪৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ‘অপ সাসার’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩০৭ বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি- ৩৭০ জন। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার ৩২৮ এবং মিয়ানমারের ১৮৩ নাগরিক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সুতেরামাস অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া শাবান বলেন, জনসাধারণের অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশিদের বসবাসের এলাকাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিচয়পত্র না থাকা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং স্বীকৃত নয় এমন কার্ড ব্যবহারের মতো অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই পুরুষ এবং তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
অভিযান চলাকালে তদন্তে সহায়তার জন্য ৪৫ জন মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে সমন দেওয়া হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন বাড়ির মালিকও এর মধ্যে রয়েছেন।
জাকারিয়া শাবান বলেন, বিদেশিদের উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ বাড়ায় বর্তমানে দেশজুড়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি অভিযান পরিচালনা করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। তিনি আরও জানান, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩১ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার বিদেশিকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দিতে সরকার ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ চালু রেখেছে। এই কর্মসূচির আওতায় অবৈধ অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ করলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
জাকারিয়া শাবান বলেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারীদের সংখ্যা কমাতে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।