মানবাধিকার নেতা রঞ্জন কর্মকারের মৃত্যু, ঐক্য পরিষদের গভীর শোক। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রঞ্জন কর্মকার আর নেই। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি পরলোকগমন করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
রঞ্জন কর্মকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন সভাপতি অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার ও নির্মল রোজারিও এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুতে শোক জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে রঞ্জন কর্মকার আজীবন সক্রিয় ছিলেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিঃস্বার্থ ভূমিকা পালন করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ঐক্য পরিষদের নেতারা এবং তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। ১২ আগষ্ট(বুধবার) সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ শোক জানান হয়।
রঞ্জন কর্মকার মৃত্যুর সময় বেসরকারি নাগরিক প্রতিষ্ঠান ‘স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি স্ত্রী কবিতা রানী বিশ্বাস ও কানাডায় অবস্থানরত একমাত্র সন্তান সুভঞ্জন কর্মকারকে রেখে গেছেন। তাঁর মরদেহ বর্তমানে বারডেম হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কানাডা থেকে ছেলে দেশে ফেরার পর তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
রঞ্জন কর্মকারের পিতা ধীরেন্দ্র নাথ কর্মকার ও মাতা গৌরী রানী কর্মকার ইতোমধ্যে তাঁদের পৈতৃক ভিটা ঝালকাঠির কীর্তিপাশায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রঞ্জন কর্মকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি থাকাকালে ১৯৮১-১৯৮২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দুই দফায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ছিলেন।