বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বা একিউআইএস নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের জন্য নতুন সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট: তাইওয়ানের সরকারি সংস্থা গুলোতে গত জুলাইয়ে বিদেশি উৎস থেকে এআইনির্ভর সাইবার হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে আক্রান্ত সংস্থাগুলো সফলভাবে হামলা শনাক্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
তাইওয়ানের ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুলাইয়ে সরকারি সংস্থা গুলোকে লক্ষ্য করে অস্বাভাবিক সাইবার হামলা শনাক্ত করে সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ইউনিট। ২০ জুলাই থেকে বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সাইবার সিকিউরিটি কয়েক দফা সতর্কবার্তা জারি করে। তদন্তে দেখা যায়, হামলাগুলোর পেছনে বিদেশি উৎসের স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য ছিল। হ্যাকাররা প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি এআই এজেন্ট ব্যবহার করে সমন্বিত ভাবে হামলা চালায়। অর্থাৎ প্রচলিত ও এআইনির্ভর কৌশলের সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
তাইওয়ানের মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার উৎস, পদ্ধতি ও সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত সরকারি সংস্থাগুলো পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। নতুন ধরনের এআইনির্ভর সাইবার হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক নির্দেশিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর সিস্টেম পর্যবেক্ষণও জোরদার করা হয়েছে।
তবে হামলার জন্য সরাসরি চীনকে দায়ী করেনি তাইওয়ান। দেশটির দাবি, চীন দীর্ঘদিন ধরে সামরিক চাপ, ভুল তথ্য প্রচার ও সাইবার হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’ কৌশল ব্যবহার করে আসছে। তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটির হাসপাতাল, ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে চীনভিত্তিক সাইবার হামলা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ২৬ লাখ ৩০ হাজার সাইবার আক্রমণ শনাক্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি।
এদিকে তাইওয়ানের সরকারি বক্তব্যের এক দিন আগে ইসরায়েল ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ড্রিম এআইনির্ভর একটি সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি অভিযানের তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এআই এজেন্টের সমন্বয়ে পরিচালিত ওই অভিযানে এশিয়ার একটি সরকারের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড ও গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তদন্তে চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে তাইওয়ানের সরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায় বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
ড্রিমের তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা মাত্র চার দিনের মধ্যে তাইওয়ানের বিচার মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ এবং একটি পারমাণবিক নিরাপত্তা সংস্থার সিস্টেমের দুর্বলতা শনাক্ত করার চেষ্টা করে।
সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের মতে, এআইনির্ভর হামলার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর গতি ও পরিসর। আধুনিক এআই মডেল ব্যবহার করে হ্যাকাররা দ্রুত লক্ষ্যবস্তুর তথ্য সংগ্রহ, কোড বিশ্লেষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারছে। ফলে প্রচলিত সাইবার হামলার তুলনায় এ ধরনের আক্রমণ আরও দ্রুত ও বিস্তৃত হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হামলা এখনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। লক্ষ্য নির্বাচন, উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ মানব অপারেটরের ভূমিকা এখনো প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ এআই হামলাকারীদের সক্ষমতা বাড়ালেও এর পেছনে মানুষের নিয়ন্ত্রণ এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
তাইওয়ানের সাম্প্রতিক ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সাইবার হামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়; বরং এটি ইতিমধ্যে বাস্তব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au