পুলিশের গুলিতে নিহত ইসরাইলি সেনা
ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর নেতানিয়ায় পুলিশের গুলিতে এক ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহরের কিরিয়াত হাশারোন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট: ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অগ্নিবীর’ প্রকল্পে নেপালি তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে নেপালে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন শহর পোখারায় এই আন্দোলন শুরু করেন একদল নেপালি তরুণ। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নেপালি নাগরিকদের জন্য গোর্খা রেজিমেন্টে নিয়োগের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য থাকলেও ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় নিয়োগ বন্ধ হওয়ার পর তা আর চালু হয়নি।
আন্দোলনের সংগঠকদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোর্খা রেজিমেন্টের সাবেক নেপালি সেনা কর্মকর্তারা। আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিফ অব আর্মি স্টাফ ধিরাজ সেথ সরকারি সফরে পোখারা যাওয়ার কথা রয়েছে। তার সফরকে সামনে রেখেই নেপালি তরুণরা দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অগ্নিবীর প্রকল্পে নেপালি তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নেপালে যত দ্রুত সম্ভব এই প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ বা রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভারতীয় ও ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নেপালি নাগরিকদের জন্য ঐতিহাসিকভাবে গোর্খা রেজিমেন্ট রয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে এই রেজিমেন্টের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পরও ভারত ও ব্রিটেন নিজেদের সেনাবাহিনীতে গোর্খা রেজিমেন্টের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। একই বছর ব্রিটেন, ভারত ও নেপালের মধ্যে গোর্খা সেনা নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সাতটি গোর্খা রেজিমেন্টের ৩৯টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। পাশাপাশি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতেও নেপালি নাগরিকদের নিয়ে গঠিত গোর্খা রেজিমেন্ট রয়েছে। তবে করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে ভারতীয় গোর্খা রেজিমেন্টে নেপালি নাগরিকদের নিয়োগ স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো পুনরায় শুরু হয়নি।
এর মধ্যে ভারত ২০২২ সালে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে জনবল নিয়োগ ও ব্যয়ের কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প চালু করে। এর আওতায় ‘অগ্নিবীর’ নামে তরুণ-তরুণীদের স্বল্পমেয়াদি সামরিক সেবায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণসহ একজন অগ্নিবীরের চাকরির মেয়াদ চার বছর।
চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্মরত অগ্নিবীরদের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীতে রাখার বিধান রয়েছে। বাকি ৭৫ শতাংশকে এককালীন অর্থসহ অব্যাহতি দেওয়া হয়। ‘সেবা নিধি’ প্যাকেজের আওতায় অব্যাহতি পাওয়া সদস্যদের প্রায় ১১ লাখ ৭১ হাজার রুপি দেওয়ার কথা রয়েছে, যা করমুক্ত।
নেপালি তরুণদের দাবি, অগ্নিবীর প্রকল্পে ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি নেপালকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নেপালি নাগরিকরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোর্খা রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাই নতুন নিয়োগ কাঠামোতেও নেপালিদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
তবে নেপাল সরকার আন্দোলনকারীদের এই দাবির সঙ্গে একমত নয়। কাঠমান্ডুর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অগ্নিবীর প্রকল্পের চার বছরের স্বল্পমেয়াদি চাকরির কাঠামো ১৯৪৭ সালে নেপাল, ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
ফলে অগ্নিবীর প্রকল্পে নেপালি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে একদিকে তরুণদের আন্দোলন এবং অন্যদিকে সরকারের আপত্তির কারণে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামী রোববার ভারতীয় সেনাপ্রধানের পোখারা সফরকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র : এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au