এলিফ্যান্ট রোডে পড়ে আছে একাধিক অবিস্ফোরিত ককটেল
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট- রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সড়কের ওপর একাধিক অবিস্ফোরিত ককটেল পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে নিউমার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে এলিফ্যান্ট রোড এলাকায়…
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট- ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান তাঁর যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় বাধা দিলে দেশটির ওপর ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হবে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন কৌশলগত অংশীদার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত ওমানকে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দিলেন তিনি।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, “ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।” এর আগে গত মে মাসেও তিনি ওমানকে ‘আচরণ ঠিক না করলে’ দেশটিকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের সর্বশেষ এই হুমকি এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে তাঁর প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও সংঘাতের স্থায়ী অবসানের কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য নির্ধারিত দুই মাসের সময়সীমাও সোমবার কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
তবে সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও নতুন কোনো সময়সীমা বেঁধে দিতে রাজি নন ট্রাম্প। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের উচিত আত্মসমর্পণের সংকেত দেওয়া। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমার কোনো সময়সূচি নেই। আমি তাড়াহুড়ো করছি না।”
এর আগে গত ১৭ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ওই সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িকভাবে শত্রুতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং সর্বোচ্চ ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ ছিল না। আলোচনার লক্ষ্য ছিল ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে একটি সমন্বিত চুক্তিতে পৌঁছানো।
কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং সবসময় তা-ই থাকবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনো যুদ্ধ ও কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বিরত রাখাকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রায় ছয় মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভান্ডার ক্ষয় হচ্ছে কি না, এমন উদ্বেগও উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে, তা মার্কিন সামরিক সক্ষমতার তুলনায় খুবই সামান্য।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ইউক্রেনকে দেওয়া হয়েছিল। তবে যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের অস্ত্রভান্ডার দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়ে এর আগেও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছিলেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন উত্তেজনা
ট্রাম্পের ওমানকে হামলার হুমকির সঙ্গে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতিরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে।
ইরান হরমুজ প্রণালির উত্তরে এবং ওমান দক্ষিণে অবস্থিত। চলমান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প এর আগেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত শুক্রবার এক বক্তব্যে তিনি প্রণালিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দেন। এর আগে মে মাসে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ওমান ‘আচরণ ঠিক না করলে’ দেশটিকে বোমা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওমানের দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। উপসাগরীয় এই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারদের একটি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ ও আলোচনার ক্ষেত্রেও ওমান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রায় ৫৩ লাখ মানুষের দেশ ওমান চলমান সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এমনকি ইরানের পক্ষ থেকেও সোমবার জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পরও ওমানের সঙ্গে আলোচনা গুরুত্বের সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি গোপন যোগাযোগ
সোমবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে সরাসরি একটি গোপন যোগাযোগের পথ বা ব্যাকচ্যানেল চালু করেছে।
চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ইরানের এই বাহিনী। ট্রাম্প আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, তারা ভালোভাবে দর-কষাকষি করতে জানে, তবে তারা মারা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, একদিকে ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অন্যদিকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগের পথও খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন।
ওমানকে হুমকিতে নতুন কূটনৈতিক সংকটের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ওমানকে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না, বরং ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ওমান দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যেকোনো নতুন সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে সামরিক সংঘাত আরও বাড়লে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে একদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ওমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশকে সামরিক হামলার হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুদ্ধের প্রায় ছয় মাস পরও চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে গড়াবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম বড় প্রশ্ন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au