হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বলতেই ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের ভূখণ্ড’ দেখাল তেহরান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা ঘটে। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। মানচিত্রে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করা হয় এবং এর নিচে লেখা ছিল ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করা হবে।
পরে হোয়াইট হাউসও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাদের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পের ওই পোস্টটি পুনরায় প্রকাশ করে।
এর জবাবে ইরানের সরকারি ‘ইরান ইন হায়দরাবাদ’ অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। ওই মানচিত্রে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লেখা হয়, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নতুন ভূখণ্ড।’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও ট্রাম্পের পোস্টের সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ‘ভ্রান্ত ধারণা’ খুব শিগগিরই সংশোধন হবে, অথবা ইরানই এই ‘ভ্রান্ত ধারণায় থাকা ব্যক্তির’ ভ্রান্তি সংশোধন করবে।
ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের পাল্টা বক্তব্যের প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে দেশটির বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের বাইরে ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের সবচেয়ে বড় ঘনবসতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায়।
ইউসিএলএর সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজের ইরানি প্রবাসী বিষয়ক তথ্যভান্ডারের হিসাবে, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি-আমেরিকান বসবাস করেন।
১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি সম্প্রদায়ের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানি প্রবাসী জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। এলাকাটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘তেহরাঞ্জেলেস’ নামেও পরিচিত।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন কয়েক মাসের সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বছরের জুনে যুদ্ধ বন্ধ এবং পরবর্তী সময়ে একটি বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। তবে এর বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।