তিন কারণে ভাঙছে তিশা-ফারুকীর সংসার, মুখ দেখাদেখিও বন্ধ
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট প্রেম থেকে পরিণয়, একসঙ্গে পথচলার ১৬ বছর। সেই সংসারেই এবার ভাঙনের সুর। নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার দাম্পত্য…
ওটিএন বাংলা, অস্ট্রেলিয়া: দেবীর আরাধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপে এবার উঠে এসেছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্ন। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ, এসব ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে প্রদর্শিত হয়েছে ব্যানার-পোস্টার।
ওটিএন বাংলার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে এসব প্রতিবাদী বার্তা চোখে পড়ে। কোথাও প্রতিমার পাশে, কোথাও মণ্ডপের প্রবেশপথে স্থাপন করা ব্যানারে সহিংসতায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মরণ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে—‘Remembering the lives we lost’, অর্থাৎ ‘হারানো প্রাণগুলোকে স্মরণ করছি’। পাশাপাশি রয়েছে তাঁদের কথা ভুলে না যাওয়ার আবেদন। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ব্যানারটিতে কয়েকজনের নাম ও ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
অন্য ব্যানারে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর অধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। ব্যানারে তাঁকে ‘প্রায় ৭০০ দিন কারাগারে’ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়কালের তথ্যটি ব্যানারে প্রদর্শিত বক্তব্য অনুযায়ী উল্লেখ করা হলো।

উৎসবের মধ্যেও প্রতিবাদ—অস্ট্রেলিয়ার পূজামণ্ডপে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবি। ছবি: ওটিএন বাংলা
উভয় ব্যানারের নিচে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশ লিমিটেড (AFERMB)-এর নাম রয়েছে।
সংগঠনটির অন্যতম পরিচালক অমল দত্ত সিডনি থেকে জানান, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে কয়েক হাজার মানুষ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এই আবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
সংগঠনটির আরেক পরিচালক, ভিক্টোরিয়ার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. বিপ্লব রায়ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানান।
উৎসবের এই পরিসরে প্রদর্শিত ব্যানারগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে প্রবাসীদের উদ্বেগ। পূজার আনন্দের পাশাপাশি সেখানে জায়গা পেয়েছে নিহতদের স্মরণ, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা এবং নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান।
এদিকে বাংলাদেশের জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সার্বজনীন মানবাধিকারের পক্ষে অস্ট্রেলিয়া কথা বলে যাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং।
অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্য জুলিয়ান লিসারকে লেখা এক জবাবে তিনি এ কথা জানান। বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর আটক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ (Australian Federation for Ethnic and Religious Minorities in Bangladesh) এর উদ্বেগের বিষয়ে গত ১৯ আগস্ট, ২০২৬ লিসার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন।
জবাবে পেনি ওং বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুসহ জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ (HRCBM) রিপোর্ট: ২০২৬
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছয় মাসে নথিভুক্ত ৮২৪টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে ২৩৪টি ভূমি দখল, সম্পত্তি আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ২২৩টি অপহরণ ও শারীরিক হামলা, ১৬৮টি হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যু, ১৪১টি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর, ৪১টি যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, এবং ১৭টি ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত ঘটনা।
এ ছাড়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতনের ঘটনায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au