অস্ট্রেলিয়ার পূজামণ্ডপে প্রতিবাদের বার্তা
ওটিএন বাংলা, অস্ট্রেলিয়া: দেবীর আরাধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপে এবার উঠে এসেছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্ন। বাংলাদেশে…
করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই নতুন এক ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবাদি পশুর শরীরে সংক্রমণ ঘটানো শামোন্ডা ভাইরাস এবার মানুষের শরীরেও শনাক্ত হয়েছে। ফ্রান্সে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়ায় এর ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এটি করোনাভাইরাসের মতো মহামারির রূপ নিতে পারে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
কী এই শামোন্ডা ভাইরাস?
শামোন্ডা ভাইরাস অর্থোবুনিয়াভাইরাস গোত্রের একটি পতঙ্গবাহিত ভাইরাস। এটি সিম্বু সেরোগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। ১৯৬০-এর দশকে নাইজেরিয়ার একটি খামারে গবাদি পশুর শরীরে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গরু, ছাগল, ভেড়া ও ঘোড়ার মতো প্রাণীর মধ্যে এর সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও গবাদি পশুর মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
সাধারণত মশা বা রক্তচোষা ক্ষুদ্র পতঙ্গের কামড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস পশুর শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর উচ্চ জ্বর, তীব্র ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্দা ও দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া গর্ভপাতসহ প্রজননজনিত জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে।
ফ্রান্সে মানুষের শরীরে শনাক্ত
ফ্রান্সে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি আগে থেকেই গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতা অথবা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার দুর্বলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে তাঁর মস্তিষ্কে দেখা দেওয়া জটিলতার সঙ্গে ভাইরাসটির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কীভাবে তাঁর শরীরে ভাইরাসটি প্রবেশ করেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকদের প্রাথমিক ধারণা, আক্রান্ত কোনো মশা বা অন্য কোনো পতঙ্গের কামড়ের মাধ্যমে তিনি সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ভাইরাসটির সম্পর্ক এবং সংক্রমণের প্রকৃত ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
করোনাভাইরাসের চেয়ে কি বেশি ভয়ংকর?
মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর উদ্বেগজনক হলেও, এটিকে করোনাভাইরাসের চেয়ে বেশি ভয়ংকর বলার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। করোনাভাইরাসের মতো দ্রুত একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা শামোন্ডা ভাইরাসের রয়েছে, এমন তথ্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এখন পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়ানোর কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। এটি মূলত পশুর মধ্যে সংক্রমণ ঘটায় এবং পতঙ্গের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। তাই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মহামারি দেখা দেবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বিশ্বজুড়ে কেন সতর্কতা?
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গবাদি পশুর মধ্যে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর মানুষের শরীরে এর উপস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ভাইরাসটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন এবং এর সংক্রমণ কীভাবে ঘটে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে মানুষের শরীরে শনাক্ত হওয়া ঘটনাটির সঙ্গে ভাইরাসটির প্রকৃত ভূমিকা নির্ধারণ করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, শামোন্ডা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন হলেও, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে করোনাভাইরাসের মতো মহামারির আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au