জাম্বিয়ার সাবেক মন্ত্রী ।
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: জাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একদিন পর বিরোধী নেতা ব্রায়ান মুন্ডুবিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে সাবেক মন্ত্রী মুতোটওয়ে কাফওয়ায়া নিহত হয়েছেন। রাজধানী লুসাকায় শুক্রবার এই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হলে মুতোটওয়ে কাফওয়ায়া গুলিবিদ্ধ হন। পরে তিনি মারা যান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিযানের সময় আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিরোধী নেতা ব্রায়ান মুন্ডুবিলের দল এনআরপিইউপি ‘বিদ্রোহী তৎপরতা’ এবং ‘মিলিশিয়া কার্যক্রমের’ সঙ্গে জড়িত। দলটির কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র মজুদের অভিযোগও করেছে সরকার।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রায়ান মুন্ডুবিলে। তিনি সরকারি অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের পর বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের এই উত্তেজনা নতুন করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিরোধী নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং সাবেক মন্ত্রীর নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাম্বিয়ার সরকারি নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান মুন্ডুবিলে ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরদিনই বিরোধী নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং এতে সাবেক মন্ত্রীর নিহত হওয়ার ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে অভিযানে নিহত মুতোটওয়ে কাফওয়ায়া কীভাবে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তিনি ঠিক কী ভূমিকা পালন করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে নিরাপত্তা বাহিনী ও অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতিও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
সরকার বিরোধী দলটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী তৎপরতা ও মিলিশিয়া কার্যক্রমের অভিযোগ তুললেও ব্রায়ান মুন্ডুবিলে তা অস্বীকার করেছেন। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযান এবং সাবেক মন্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি