স্লিপওভারের সময় সড়কের পাশে কথিত হামলার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি কিশোরী। ছবি: সংগৃহীত।
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে দুই কিশোরী মিলে মারধর করে অচেতন করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কুইন্সল্যান্ডের বহুল আলোচিত ‘অ্যাডাল্ট ক্রাইম, অ্যাডাল্ট টাইম’ বা প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শাস্তি দেওয়ার আইন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিত কিশোরীর মা।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে স্লিপওভারের জন্য খাবার কিনতে দোকানে যাচ্ছিল ১৩ বছরের ওই কিশোরী। পথে একটি গাড়িতে থাকা কয়েকজন কিশোরী তাকে লক্ষ্য করে গালাগাল করে। তাদের আগে থেকেই চিনতেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী কিশোরী।
অস্ট্রেলিয়ার অনুষ্ঠান ‘এ কারেন্ট অ্যাফেয়ার’-কে সে জানায়, পরিস্থিতি এড়াতে সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তখনই তাকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

দুই কিশোরীর কথিত হামলার পর সড়কের পাশে এক কিশোরীকে প্রায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে স্লিপওভারের আনন্দ পরিণত হয় মর্মান্তিক ঘটনায়। ছবি: সংগৃহীত।
কিশোরীটি বলেন, ‘আমি পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যেতে দৌড়াতে শুরু করি। তখনই আমাকে কংক্রিটের ওপর আছড়ে ফেলা হয়। এরপর আমার মাথায় লাথি মারা হয়। আমাকে টেনে-হিঁচড়ে এবং ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছিল।’
অভিযোগ করা হচ্ছে, হামলাটি প্রায় পাঁচ থেকে ১০ মিনিট ধরে চলে। ঘটনার পরপরই ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি কে ধারণ করেছে, তা স্পষ্ট নয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার পর হামলা থামে। পরে তারা কিশোরীর মাকে খবর দেন। ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন তার মা।মেয়ে সম্পর্কে বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এটা আমাকে ভেঙে দিয়েছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন গাড়ির ধাক্কা লেগেছে।’
তিনি জানান, তার মেয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিল। ঘটনার পর তার অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যরা প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
কিশোরীর মা বলেন, ‘যারা সেখানে থামিয়ে না দিলে, সে হয়তো আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলার অবস্থায় থাকত না।’
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার পরের দৃশ্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রক্তাক্ত ও অসহায় অবস্থায় ওই কিশোরীকে দেখা যায় বলে তার পরিবারের দাবি।
তার মা বলেন, ‘এটা আরও হয়রানির মতো। সে এরই মধ্যে অনেক কিছু সহ্য করেছে। এরপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে তাকে আরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে।’
এক বন্ধুর কাছ থেকে ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে পারে ওই কিশোরী। পরে ভিডিওটি তাকে দেখানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কিশোরীর মা বলেন, ‘রক্তে ভেজা, অসহায় অবস্থায় তাকে দেখা… এটা একেবারেই অমানবিক।’
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই কিশোরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তাদের একজনের বয়স ১৬ বছর। তার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মাসের শেষ দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
অন্য কিশোরীর বয়স ১৩ বছর। তার বয়সের কারণে তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা যাবে না। কুইন্সল্যান্ডের ইয়ুথ জাস্টিস অ্যাক্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেয়ে কেন এই ঘটনা প্রকাশ্যে আনছে, সে বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কিশোরীর মা কুইন্সল্যান্ডের ‘অ্যাডাল্ট ক্রাইম, অ্যাডাল্ট টাইম’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।তিনি বলেন, ‘এটা বন্ধ হওয়া দরকার। অ্যাডাল্ট ক্রাইম, অ্যাডাল্ট টাইম নীতির যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন।’
তার অভিযোগ, শুধু তার মেয়েই নয়, আরও অনেক তরুণ-তরুণী একই ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এখানে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। কারণ এটা শুধু আমার মেয়ের সঙ্গে ঘটেনি। আরও অনেক তরুণ একই ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছে।’
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হলেও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
সূত্র-নাইন.কম.এইউ