হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১৮০
দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১০ জনের শরীরে…
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তেহরানে সরকার পতনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রেরও সুস্পষ্ট বিজয় আসেনি। বরং সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে অচলাবস্থা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়। শুরুতে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা ছিল, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে দেশটির রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
কিন্তু ছয় মাস পর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন বরং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের সম্ভাবনা এবং এর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
যুদ্ধের অন্যতম বড় প্রভাব পড়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে। যুদ্ধ শুরুর পর সেখানে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ইরানের জাহাজে হামলা এবং ইরানি বন্দরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তেলনির্ভর দেশগুলো এখনো সেই সরবরাহ সংকটের প্রভাব সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও কমেনি। বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় অঞ্চলটিতে এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের মোতায়েন রয়েছে।গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হওয়ার পর সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে এতে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটেনি।
ফলে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধ ফের তীব্র হলে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই চলমান বিভিন্ন সংঘাত ও উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।এর মধ্যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন আনছে। ভারত ও চীনের মতো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা পুরোপুরি থেমে না গেলেও এর গতি কিছুটা ধীর হয়েছে।
চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ অবশ্য মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরো অঞ্চল এখন একটি পরিবর্তনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধু বাইরের কোনো শক্তির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোট থাকলেই যে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, এমন ধারণা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।
এরই মধ্যে সম্প্রতি মক্কায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরনের আরও সামরিক ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিন্তনপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে একেবারে নতুন কোনো প্রবণতা তৈরি করেনি। বরং আগে থেকেই চলমান প্রবণতাগুলোকে আরও দ্রুত এগিয়ে দিয়েছে।
আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের আগেই নিজেদের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও দেশগুলো চিন্তা করছিল।
তার মতে, বর্তমান যুদ্ধ সেই উদ্যোগগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (RUSI) এইচ এ হেলিয়ার মনে করেন, চলতি বছর ইরানকে পুরোপুরি পর্যুদস্ত করতে না পারলেও ইসরায়েল এখনো মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব ও আধিপত্য আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
আল-জাজিরাকে হেলিয়ার বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তেহরানে সরকার পতনের সম্ভাবনা নেই।
তার মতে, তাত্ত্বিকভাবে যদি বর্তমান পরিস্থিতি একই থাকে এবং শুধু ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু সেটি কয়েক মাসে হওয়ার মতো কোনো ঘটনা নয়, বরং কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পরিস্থিতি একই থাকবে এমন নিশ্চয়তাও নেই।ছয় মাসের যুদ্ধের পর সবচেয়ে স্পষ্ট যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা কম। ইরানে সরকার পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, যুক্তরাষ্ট্রও চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য, সামরিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক জোটের রাজনীতিতে।
ফলে আগামী ছয় মাসে যুদ্ধের তীব্রতা কমে স্থায়ী সমঝোতা হবে, নাকি আবারও সংঘাত বাড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের বড় অংশের আশঙ্কা, ইরানকে ঘিরে বর্তমান অচলাবস্থা দ্রুত কাটার সম্ভাবনা নেই। বরং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার মধ্যেই নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কৌশল নতুন করে সাজাতে হতে পারে।
সূত্র- আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au