নেপালে আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯, নিখোঁজ ১,৪০০-এর বেশি
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার নেপাল পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে…
কালো লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি। হাতে বড় দুটি কালো বন্দুক। কখনো পার্কে, কখনো ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দোকানের সামনে বন্দুক হাতে ঘুরছেন দুই তরুণ। সামনে কাউকে পেলেই তার দিকে তাক করা হচ্ছে বন্দুক। রিকশাচালক, পথচারী থেকে শুরু করে শিশুও বাদ যাচ্ছে না। কেউ ভয়ে সরে যাচ্ছেন, কেউ থমকে দাঁড়াচ্ছেন, আবার কেউ বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকছেন।
৩৫ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। কেউ কেউ এ নিয়ে সরকারের সমালোচনাও করেন।
তবে ভিডিওটির নির্মাতাদের দাবি, এটি বাস্তব বন্দুক নিয়ে কোনো মহড়া বা অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়। মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করতেই খেলনা বন্দুক ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
ভিডিওটির বিভিন্ন দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কে, যেটি আগে শেখ রাসেল নহর পার্ক নামে পরিচিত ছিল।
ভিডিওটির নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। বন্দুক হাতে তার সঙ্গে থাকা তরুণের নাম ইয়াসিন। তিনি ভিডিও ধারণের কাজে লিমনকে সহযোগিতা করেন।
লিমন জানান, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির আগে এটি টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। সেখানে লিমন ও তার বোন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই নিজের বলে জানিয়েছেন লিমন।
লিমন তোহার ভাষ্য, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর প্রবণতা দেখে তিনি এটি তৈরি করেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা।
তিনি বলেন, ভিডিওটি মূলত মজার কনটেন্ট হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ফেসবুকে প্রকাশের পর অনেকে সেটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেন।
লিমনের দাবি, ভিডিওতে মানুষের ভয় পাওয়ার দৃশ্যগুলো রাখা হলেও পরে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে যে স্বাভাবিক ও মজার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, সেসব অংশ প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটক দেখেন তিনি। সেখানকার কিছু দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের মতো করে ভিডিও তৈরি করেন। পাকিস্তানি সিনেমা ও নাটকের আদলে তৈরি কনটেন্টে বেশি সাড়া পাওয়ায় পরে এ ধরনের ভিডিও তৈরির প্রবণতা বাড়ে।
ভিডিওতে ব্যবহৃত বন্দুকগুলো খেলনা বলে দাবি করেছেন লিমন। তার ভাষ্য, ভিডিও ধারণের সময় সেখানে পুলিশ সদস্যরাও বিষয়টি দেখেছিলেন।
লিমন বলেন, বন্দুক দেখে প্রথমে কয়েকজন ভয় পেলেও পরে সেটি খেলনা বুঝতে পেরে অনেকে বিষয়টি নিয়ে হাসি-তামাশা করেন। পুলিশও প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে বুঝতে পারে এটি খেলনা বন্দুক।
তার দাবি, পুলিশের প্রতিক্রিয়ার দৃশ্যও ধারণ করা হয়েছিল। তবে সেটি ভালোভাবে ধারণ না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।
তবে ওই দুই তরুণের বাড়ি বন্দর থানার এলাকায় হলেও ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার আওতাধীন এলাকায়।
ভিডিওটি সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ অবগত নয় বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান।
তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ভিডিও সম্পর্কে তাকে কেউ জানায়নি এবং কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। সিটি পার্ক এলাকায় পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওসি জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। ভিডিওটির সঙ্গে কোনো ধরনের অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিডিওটি বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হলেও এতে কাউকে ভয় দেখানো হয়ে থাকলে তা আইনগতভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কাউকে কোনো ধরনের উপকরণ ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। সেখানে ব্যবহৃত অস্ত্রটি আসল না খেলনা, সেটিই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়।
তার মতে, এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। প্রথমত, বন্দুক তাক করে মানুষকে ভয় দেখানো এবং আতঙ্ক তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া।
অধ্যাপক রবিউল ইসলামের ভাষ্য, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হলে সেটি অপরাধের আওতায় আসতে পারে। পাশাপাশি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও প্রযোজ্য সাইবার আইনের আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।
ফলে ভিডিও নির্মাতাদের দাবি, এটি নিছক বিনোদনের জন্য তৈরি এবং বন্দুকগুলো খেলনা হলেও, জনসমক্ষে অস্ত্রের আদলে কোনো বস্তু তাক করে মানুষকে ভয় দেখানোর বিষয়টি আইনগতভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au