অস্ট্রেলিয়া

বর্ণবৈষম্য আইন চ্যালেঞ্জ করে অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টে যাচ্ছেন ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসন

  • 8:52 pm - August 28, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৩০ বার
সিনেটর মেহরিন ফারুকি ও পলিন হ্যানসনকে ঘিরে চলা আইনি বিরোধের রায়ে হ্যানসনকে গ্রিনসের উপনেতা ফারুকিকে বর্ণবিদ্বেষমূলকভাবে হেয় করার জন্য দায়ী করা হয়েছে। সূত্র: নিউজওয়্যার

অস্ট্রেলিয়ার বর্ণবৈষম্য আইন চ্যালেঞ্জ করে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন ওয়ান নেশন দলের নেতা ও সিনেটর পলিন হ্যানসন।

গ্রিনস পার্টির সিনেটর মেহরিন ফারুকিকে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার দায়ে আদালতের একাধিক রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার হাইকোর্টে বিশেষ অনুমতি চেয়ে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি মূলত অস্ট্রেলিয়ার Racial Discrimination Act-এর 18C ধারা নিয়ে। এই ধারায় কারও বর্ণ, গায়ের রং, জাতীয়তা বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে তাকে অপমান, হেয়, লাঞ্ছিত বা ভয় দেখানো বেআইনি।

শনিবার সকালে হ্যানসন ঘোষণা দেন, তিনি এই ধারার বৈধতা ও প্রয়োগের পরিধি নিয়ে হাইকোর্টে লড়বেন।

তিনি বলেন, এই লড়াই শুধু তার নিজের জন্য নয়, বরং যেসব অস্ট্রেলীয় মনে করেন তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে, তাদের জন্যও।

হ্যানসনের ভাষ্য, অভিবাসন, বর্ণ, ধর্ম, আদিবাসী নীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোলামেলা মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক অস্ট্রেলীয় এখন ভয় পান। কারণ, তাদের ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দেওয়া হতে পারে কিংবা অভিযোগের প্রক্রিয়া ও আদালতের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে

২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে হ্যানসন ও ফারুকির মধ্যে এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত।

রানির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ফারুকি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রকে ‘বর্ণবাদী সাম্রাজ্য’ হিসেবে সমালোচনা করেন। এর জবাবে হ্যানসন ফারুকির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাকে পাকিস্তানে ফিরে যেতে বলেন।

ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসন এবার তার আইনি লড়াই নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
ছবি: নিউজওয়্যার/মার্টিন অউলম্যান

হ্যানসন তখন ফারুকিকে উদ্দেশ করে বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের পর তিনি দেশটির নাগরিকত্ব নিয়েছেন, একাধিক বাড়ি কিনেছেন এবং পার্লামেন্টে চাকরি পেয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় যদি ফারুকি সন্তুষ্ট না হন, তাহলে ‘ব্যাগ গুছিয়ে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়া’ উচিত।

এই মন্তব্যের পর ফারুকি হ্যানসনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন।

আদালতের রায়ে হ্যানসন দায়ী

২০২৪ সালে বিচারক অ্যাঙ্গাস স্টুয়ার্ট রায় দেন, হ্যানসনের ওই মন্তব্য Racial Discrimination Act-এর লঙ্ঘন। আদালতের মতে, ফারুকিকে তার জাতীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অপমান করা হয়েছিল।

হ্যানসন ওই রায়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল কোর্টে আপিল করেন। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই আপিলও খারিজ হয়ে যায়।

এরপরই হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন ওয়ান নেশন নেতা।

‘সরকার ঠিক করবে না অস্ট্রেলীয়রা কী বলতে পারবেন’

হ্যানসনের দাবি, আইনের 18C ধারা অতিরিক্ত বিস্তৃত এবং এর কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি স্বাধীন দেশে সরকারের কাজ নাগরিকেরা কী বলতে পারবেন, তা ঠিক করে দেওয়া নয়।

হ্যানসনের ভাষায়, রাজনৈতিক বিষয়ে সরাসরি মত প্রকাশের কারণে কাউকে আদালতের মুখোমুখি হতে হওয়া উচিত নয়। তার মতে, মানুষ পরস্পরের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারবেন, তর্ক করতে পারবেন এবং এমন কথাও বলতে পারবেন যা অন্যরা অপছন্দ করেন।

তিনি বলেন, সবাই যে কথায় একমত, শুধু সেই কথাকে সুরক্ষা দিলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ থাকে না।

হ্যানসন আরও বলেন, হাইকোর্টে তার লড়াই ‘একটি টুইটের চেয়ে অনেক বড় বিষয়’।

তার দাবি, এই মামলা রাজনীতিবিদদের জন্য বিশেষ কোনো অধিকার আদায়ের চেষ্টা নয়। বরং সাধারণ অস্ট্রেলীয়রা যাতে ভয় ছাড়াই দেশের রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নিতে পারেন, সেটিই এর মূল বিষয়।

তবে হ্যানসনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন গ্রিন পার্টির সিনেটর মেহরিন ফারুকি।

আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত ২০২২ সালের একটি টুইটকে কেন্দ্র করে। ওই টুইটে সিনেটর হ্যানসন সিনেটর ফারুকিকে ‘পাকিস্তানে ফিরে যেতে’ বলেন।
ছবি: নিউজওয়্যার/মার্টিন অউলম্যান

জুলাইয়ে ফেডারেল কোর্টের রায়ের পর ফারুকি বলেছিলেন, ‘হেট স্পিচ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ফ্রি স্পিচ বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়।’তিনি অভিযোগ করেন, হ্যানসন তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী আচরণ করেছেন এবং এখনো তা করে চলেছেন।

ফারুকির মতে, আদালতের এই রায় শুধু তার ব্যক্তিগত বিজয় নয়। যারা কখনো ‘যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও’ ধরনের কথা শুনেছেন, তাদের সবার জন্য এটি একটি বিজয়।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় কারও অবস্থান বা অন্তর্ভুক্তি যেন শর্তসাপেক্ষ নয়, এই বার্তাও আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

হাইকোর্টে গেলে ‘লড়াই হবে’

হ্যানসন হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফারুকি বলেন, তিনি ওয়ান নেশন নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, হ্যানসন যদি বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টে নিজের অবস্থান defend করতে চান, তাহলে তিনি সেই লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

এখন হ্যানসনের সামনে মূল ধাপ হলো অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টের কাছ থেকে special leave to appeal, অর্থাৎ আপিলের বিশেষ অনুমতি পাওয়া। সেই অনুমতি মিললেই মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতে পূর্ণাঙ্গভাবে শুনানির সুযোগ পাবে।

সূত্র-  নিউজ.কম.এইউ

এই শাখার আরও খবর

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

সিডনি ও পার্থে বিএইচএসএএ’র শারদীয় পূজা পরিক্রমা সম্পন্ন

শতদল তালুকদার, সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশি হিন্দু শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএইচএসএএ’র (BHSAA) শারদীয় দুর্গাপূজা পরিক্রমা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য…

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ঝরল ১০ প্রাণ, আহত আরও ২০

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে ভোরের আলো ফোটার আগেই সড়কে ঝরল ১০ প্রাণ। যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।…

‘আমি ভয় পাই না’, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা আবারও বললেন শেখ হাসিনা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আবারও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে পারেন বলে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au