হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১৮০
দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১০ জনের শরীরে…
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার নেপাল পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
গত বুধবার সকালে সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক এই ঢল নামে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার। নেপালের নুয়াকোট জেলায়। ২৭ আগস্ট ২০২৬ছবি: রয়টার্স
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনো ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অংশে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫৫৮-এর বেশি। এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তিব্বতে এই দুর্যোগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রেডক্রসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফা বন্যার সম্ভাবনা থাকায় উদ্ধারকর্মীরা উদ্বিগ্ন ও সতর্ক অবস্থায় কাজ করছেন। জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালানোর পাশাপাশি উদ্ধারকারীদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
চীন-নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে একটি হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে। ওই জলাধারের পানি উপচে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিসির বেইজিং প্রতিনিধি লরা বিকার।
দুর্যোগটির সঠিক কারণ নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ চলছে। তবে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, বড় ধরনের বরফ ও পাথরের ধস থেকেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত।
রয়টার্স ও কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর ধসে লহেন্দেখোলা নদীতে পড়ে।
এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়ে সেখানে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও কাদা একসঙ্গে প্রবল স্রোতে নিচের দিকে নেমে আসে।
এই আকস্মিক জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতই সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযানকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এর মধ্যে দ্বিতীয় দফা পানির ঢল নামার আশঙ্কা থাকায় দুর্গত এলাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকারীরা তাই নিখোঁজদের সন্ধান ও জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন বন্যার ঝুঁকিও মোকাবিলা করছেন।
সূত্র- এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au