বাংলাদেশ

রংপুরে ৪ হত্যাকান্ড

কাদের বাঁচাতে আসামিদের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন না রংপুরের আইনজীবীরা?

  • 12:35 am - August 29, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৭৩ বার
মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবিঃ সংগৃহীত

 

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী আইনি লড়াই করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মধ্যে আইনজীবী সমিতির এমন সিদ্ধান্ত নতুন করে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং আসামির আইনগত অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রংপুর নগরের দাসপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধা দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটি ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত হলো, গ্রেপ্তার দুই আসামির পক্ষে স্থানীয় কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াবেন না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমিতির এমন সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশিত হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো ব্যক্তি যত গুরুতর অপরাধের আসামিই হোন, আদালতে তাঁর পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কি বন্ধ করে দেওয়া যায়? কোনো মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ যতই ভয়াবহ হোক, দোষ প্রমাণের আগে তাঁকে কি আইনের চোখে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায়?

বাংলাদেশের সংবিধান ও ফৌজদারি আইন বলছে, এর উত্তর না।

সংবিধানেই রয়েছে আইনজীবীর সহায়তার অধিকার

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তার ও আটক ব্যক্তির মৌলিক অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৩(১) অনুযায়ী, গ্রেপ্তার কোনো ব্যক্তিকে তাঁর গ্রেপ্তারের কারণ জানানো থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এবং তাঁকে নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও তাঁর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

অর্থাৎ একজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেই তাঁর আইনগত সুরক্ষা শেষ হয়ে যায় না। বরং গ্রেপ্তারের পর থেকেই তাঁর আইনি অধিকার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

শুধু তাই নয়, সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিক ও বাংলাদেশে অবস্থানরত অন্য ব্যক্তির আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা ছাড়া কারও জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে ক্ষতিকর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদও বলছে, আইন অনুযায়ী ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। একই সঙ্গে ৩৫(৩) অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধিতেও আসামির পক্ষে আইনজীবীর অধিকার

বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৪০ ধারায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।

ধারা ৩৪০(১)-এ বলা হয়েছে, কোনো ফৌজদারি আদালতে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর পক্ষে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রাখেন।

অর্থাৎ আদালতে কারও বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি বা অন্য কোনো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও বিচার শুরুর আগে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

এখানে একটি মৌলিক বিষয় হলো, অভিযোগ এবং অপরাধ প্রমাণ এক বিষয় নয়। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে, তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য পেতে পারে, এমনকি কোনো আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিতে পারেন। কিন্তু চূড়ান্তভাবে তিনি অপরাধী কি না, সেটি নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের।

তাহলে আইনজীবী না দাঁড়ালে কী হবে?

রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই। আসামিরা যদি নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে চান, কিন্তু স্থানীয় আইনজীবীদের একটি সংগঠন যদি সম্মিলিতভাবে তাদের পক্ষে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আসামিদের বাস্তবিকভাবে আইনজীবী পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদে অবশ্যই ‘নিজের পছন্দের’ আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও তাঁর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট আইনজীবীকে ব্যক্তিগতভাবে মামলা নিতে বাধ্য করার প্রশ্ন আর একজন আসামির আইনগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রশ্ন এক নয়।

কিন্তু একটি পুরো জেলা আইনজীবী সমিতি যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে কেউই আসামিদের পক্ষে দাঁড়াবেন না, তখন বিষয়টি শুধু কোনো একজন আইনজীবীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে থাকে না। এটি আসামির কার্যকর প্রতিরক্ষার সুযোগ নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করে।

‘আসামির পক্ষে দাঁড়ানো মানেই কি হত্যাকারীকে বাঁচানো?’

এখানেই আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।

একজন আইনজীবী কোনো আসামির পক্ষে দাঁড়ালে তিনি অপরাধকে সমর্থন করছেন না। তিনি আদালতের কাছে রাষ্ট্রের অভিযোগের আইনগত ভিত্তি পরীক্ষা করেন, সাক্ষীদের জেরা করেন, আলামতের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সেটি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেন।

যদি আসামি সত্যিই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রমাণ আদালতের পরীক্ষায় টিকে যাবে। আর যদি তদন্তে ভুল থাকে, জবানবন্দি জোর করে নেওয়া হয়ে থাকে, আলামত সঠিকভাবে সংগ্রহ করা না হয়ে থাকে অথবা অন্য কেউ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে প্রতিরক্ষা আইনজীবীর মাধ্যমে এসব প্রশ্ন আদালতের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

সুতরাং আইনজীবীর দায়িত্ব আসামিকে ‘বাঁচানো’ নয়। তাঁর দায়িত্ব হলো ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী আসামির পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

এই মামলায় প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ কেন?

রংপুরের চার হত্যাকাণ্ড নিয়ে এরই মধ্যে তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু কথিত হত্যায় ব্যবহৃত গামছা, দড়ি ও সুতা জাতীয় আলামত তাঁর কাছে পৌঁছায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ ছাড়া ঘটনাস্থলে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ, আঙুলের ছাপ, জৈবিক নমুনা, আসামিদের শরীর ও পোশাকে ধস্তাধস্তির চিহ্ন এবং ইয়াবা সেবনের দাবির পক্ষে বিষক্রিয়া পরীক্ষার মতো বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এসব প্রশ্নের উত্তর শেষ পর্যন্ত আদালতেই পরীক্ষা হওয়ার কথা। রাষ্ট্রপক্ষ বলবে, পুলিশ কী প্রমাণ পেয়েছে। আর আসামিপক্ষ সেই প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা, ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। এই বিচারিক প্রক্রিয়াটিই ন্যায়বিচারের মূল কাঠামো।

রংপুরে একসঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছেন এক পরিবারের চারজন। গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর পারিবারিক ছবিটি এখন শুধুই স্মৃতিছবি: সংগৃহীত

আইনগত সহায়তার সুযোগও আইনে রয়েছে

বাংলাদেশের আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এও ফৌজদারি মামলার আসামিকে আইনগত সহায়তার আওতায় রাখা হয়েছে। আইনের সংজ্ঞায় ‘মামলার পক্ষ’ বা ‘litigant’-এর মধ্যে দেওয়ানি, পারিবারিক ও ফৌজদারি মামলার বাদী, বিবাদী, অভিযোগকারী এবং আসামি অন্তর্ভুক্ত।

আইনটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসহায় বা আর্থসামাজিক কারণে বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষম ব্যক্তিদের আইনগত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

আইনের ৯ ধারার অধীনে জেলা পর্যায়ে আইনগত সহায়তা কমিটি রয়েছে। এই কমিটিতে জেলা ও দায়রা জজ, পুলিশ প্রশাসন, কারা কর্তৃপক্ষসহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারি কৌঁসুলিরাও যুক্ত থাকেন।

আইনের ১৫ ধারায় জেলা কমিটির জন্য আইনজীবীদের প্যানেল তৈরির বিধান রয়েছে। কোনো আবেদন মঞ্জুর হলে ওই প্যানেল থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও আইনে রয়েছে এবং সম্ভব হলে মামলাকারীর পছন্দ বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো আসামি আর্থিকভাবে আইনজীবী নিয়োগে অক্ষম হলে তাঁর জন্য সরকারি আইনগত সহায়তার ব্যবস্থাও বিদ্যমান।

আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্তে তাই বড় প্রশ্ন

রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের মতো একটি ভয়াবহ ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। নিহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলাও স্বাভাবিক।

কিন্তু বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয় তখনই, যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি সমাজের কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হয়ে ওঠেন।

কারণ জনপ্রিয় ক্ষোভের ভিত্তিতে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতের রায় হতে হয়।

আইনজীবীরা যদি মনে করেন আসামিরা ভয়াবহ অপরাধ করেছেন, তাহলে সেই অভিযোগ আদালতে শক্ত প্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই ন্যায়বিচারের পথ। আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়ালে রাষ্ট্রের অভিযোগের কার্যকর আইনি পরীক্ষা কীভাবে হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

আর এই মামলায় যেহেতু তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে আসামিপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তাহলে কাদের বাঁচানো হচ্ছে?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই। আসামির পক্ষে আইনজীবী দাঁড়ানো মানে আসামিকে খালাস করিয়ে দেওয়া নয়। আবার আইনজীবী না দাঁড়ানো মানে নিহতদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়াও নয়।

বরং একজন আইনজীবী আসামির পক্ষে দাঁড়ালে তিনি আদালতকে তদন্তের দুর্বলতা, প্রমাণের অসঙ্গতি, সাক্ষ্যের বিরোধ, জবানবন্দির বৈধতা এবং ফরেনসিক আলামতের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার সুযোগ দেন।

যদি আসামিরাই হত্যাকারী হন, এই বিচারিক প্রক্রিয়াই তাঁদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে। আর যদি তদন্তে ভুল থাকে, নির্দোষ কাউকে ফাঁসানো হয়ে থাকে অথবা আরও কেউ জড়িত থাকেন, একই প্রক্রিয়া সেই সত্যও সামনে আনতে পারে।

তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী দাঁড়ালে কাকে বাঁচানো হবে? বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচারের কোন অংশটি দুর্বল হয়ে যাবে?

বিচার চাইলে বিচারপ্রক্রিয়াকেই শক্ত করতে হবে

মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, চারজন মানুষের নির্মম হত্যার বিচার অবশ্যই হতে হবে। প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ আইনগত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে প্রমাণ, সাক্ষ্য, ফরেনসিক আলামত এবং আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। কারণ আইনের শাসনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হলো, সমাজ যখন কোনো ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে অপরাধী মনে করে, তখনও আদালত তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয় কি না।

বাংলাদেশের সংবিধান সেই অধিকার স্বীকার করেছে। ফৌজদারি কার্যবিধিও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার দিয়েছে। আর আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তির জন্য আইনগত সহায়তার ব্যবস্থাও রাষ্ট্রীয় আইনে রয়েছে।

সুতরাং রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্তের প্রশ্নটি শুধু দুই আসামির পক্ষে কে দাঁড়াবেন, সেটি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি আরও বড় প্রশ্ন: আমরা কি শুধু অপরাধীর শাস্তি চাই, নাকি এমন একটি বিচার চাই যেখানে অপরাধী কে, সেটিও নির্ভুলভাবে প্রমাণিত হবে?

শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের ন্যায়বিচার তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন চার হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হবে এবং আসামিরাও আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ পাবেন।

কারণ আইনজীবী আসামির অপরাধের পক্ষে নন, তিনি ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়ার পক্ষে।

এই শাখার আরও খবর

মিরপুরে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রতিবেশী সুমন কারাগারে

ঢাকার মিরপুরে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রতিবেশী সুমন মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল এ আদেশ…

মেলবোর্নে ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে ছুরিকাঘাত, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন মা

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় (সিবিডি) মস্তিষ্কের ক্যানসারে আক্রান্ত ১০ বছরের ছেলেকে এক অপরিচিত ব্যক্তির হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এক মা। হাসপাতালে…

‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় চার নেতার মুরাল অপসারণ, ক্ষোভ মুক্তিযোদ্ধাদের

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের মুরাল…

ছয় মাস ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, বাড়ছে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা অডিও বার্তাও প্রকাশ…

নেপালে বন্যা: এখনও ৩২০ ভারতীয়ের খোঁজ নেই, উদ্ধার ৮৫

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ৫৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ৩২০ ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য…

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১৮০

দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১০ জনের শরীরে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au