আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে…
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় তাদের শরীরে ইয়াবা, গাঁজা বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত ও কারাগার সূত্র জানায়, গত ২০ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা দেবীসহ পরিবারের চার সদস্য। ঘটনার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁরা চরম উত্তেজিত ও মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁরা মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা যাচাই করতে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আদালতের আদেশের পর গত ৩০ আগস্ট রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে ডিবির উপস্থিতিতে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসকেরা। পরে নির্ধারিত পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই আসামির প্রস্রাবের নমুনায় ইয়াবা, গাঁজা কিংবা অন্য কোনো নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ তাঁদের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসার অর্থ এই নয় যে ঘটনার সময় আসামিরা মাদক সেবন করেননি। কারণ মাদক সেবনের পর শরীরে বা প্রস্রাবে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করার সময়সীমা মাদকভেদে ভিন্ন হয়। অনেক মাদক অল্প সময়ের মধ্যেই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। ফলে ঘটনার ১০ দিন পর নমুনা সংগ্রহ করা হলে আগের মাদক সেবনের আলামত আর নাও পাওয়া যেতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই যদি ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হতো, তাহলে ঘটনার সময় মাদক সেবনের বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকত। দীর্ঘ সময় পর পরীক্ষা করায় নেগেটিভ ফল আসা অস্বাভাবিক নয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ হওয়ায় মামলার তদন্তে মাদক সেবনের বিষয়টি আলাদা করে প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। তবে এতে হত্যাকাণ্ডের মূল তদন্ত বা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামতও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনও মামলার নথির অংশ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হবে। তবে মামলার মূল তদন্ত এগোবে আসামিদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্তের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে দ্রুত আদালতে মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। আসামিদের জবানবন্দি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই করেই অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au