‘মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য বেঁচে গেছি’, ৯০০ শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে নেপালে নায়ক স্কুলপ্রধান
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল রাজেন্দ্র দাওয়াদিকে। তিনি যে সতর্কবার্তা শুনছিলেন, সেটি সত্যিই বড় বিপদের ইঙ্গিত কি না, তা বোঝার সময়ও ছিল না…
মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রায় দেড় ঘণ্টা রায় ঘোষণা করে এ আদেশ দেন।
রায়ের পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘আজকে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত হিটু শেখের ফাঁসি কার্যকর না হবে, ততক্ষণ আমার মনে কোনো শান্তি নেই। যখন শুনব হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তখন আমি খুশি হব এবং গোটা এলাকাবাসীও খুশি হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনি (আছিয়া) কোনো অপরাধ করেনি। যে কষ্ট নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেছে, সেই কষ্ট কোনো মা যেন না পায়। আমার মনিকে বাঁচানোর জন্য সরকার অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু ওর বাঁচার ক্ষমতা ছিল না।’
হিটু শেখের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে আয়েশা বলেন, ‘এমনভাবে হিটুর ফাঁসি দেওয়া হোক, যাতে গোটা পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারে যে সরকার এখনো বিচার করতে পারে।’
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি তো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। ফাঁসির রায় আবার ঘোষণা করা হয়েছে। হিটু শেখের ছেলেরা যদি আবার আমার পরিবারের ক্ষতি করে, এজন্য সরকারের সহযোগিতা চাই। প্রশাসন যাতে তাদের নজরে রাখে, যাতে আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি করতে না পারে।’
আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। ২৫ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের আছিয়া।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় আছিয়াকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। একই বছরের ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। অর্থাৎ মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম।
এরপর ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) ও সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠাতে হয়। সেই অনুযায়ী গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে পেপারবুক তৈরির জন্য নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
এরপর মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।
রায়ের পর আছিয়ার মা দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au