সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের জিডি, কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে শিশুরা?
দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারা দেশের বিভিন্ন থানায় শিশু নিখোঁজের ঘটনায়…
ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়া ঠেকানো এবং সীমান্তে অননুমোদিত ড্রোনের প্রবেশ মোকাবিলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ড্রোন পরিচালনা ও প্রতিরোধে দক্ষ জনবল গড়ে তোলাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিজিবি।
মঙ্গলবার সিলেটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশেষায়িত এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রদর্শনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অবকাঠামো এবং সীমান্তে ড্রোন ব্যবহারের কৌশল সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
অনুষ্ঠানে বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যরা ড্রোন পরিচালনা ও সীমান্ত নজরদারির একটি বিশেষ মহড়া প্রদর্শন করেন। এতে ছয় সদস্যের স্থল টহল দল কীভাবে ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করতে পারে, চোরাচালান প্রতিরোধ করতে পারে এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ প্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে পারে, তা তুলে ধরা হয়।
মহড়ায় অননুমোদিত বা সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত এবং মোকাবিলায় ব্যবহৃত প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রমও দেখানো হয়। এতে ড্রোন শনাক্ত, গতিপথ অনুসরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নিষ্ক্রিয় করার সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজিবির নতুন করে যুক্ত করা বাণিজ্যিক ও কৌশলগত ড্রোনের আকাশ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাভিকসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিলেটের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে বাস্তব সময়ে আকাশপথে নজরদারি, সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত এবং ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সীমান্তে ড্রোনের ব্যবহার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রচলিত স্থল টহলের পাশাপাশি আকাশ থেকে নজরদারি চালানোর ফলে দুর্গম ও বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অপর পক্ষের ড্রোনের উপস্থিতি বা অননুমোদিত আকাশযান প্রবেশের আশঙ্কায় তা শনাক্ত ও মোকাবিলার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সিলেটের নতুন এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাগুরাতেও বিজিবির ড্রোনসংক্রান্ত সক্ষমতা গড়ে তোলার কার্যক্রম রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে যেমন নজরদারি ও দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত জনবল, তথ্য বিশ্লেষণ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সুস্পষ্ট পরিচালন নীতিমালা প্রয়োজন। সিলেটের নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সেই সক্ষমতা তৈরিতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au