উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে একটি বাড়ি থেকে মঙ্গলবার সকালে একসঙ্গে ২৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গত বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ)।
নেপালের নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতী এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় একটি বাড়ি থেকে ২৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভয়াবহ বন্যার পর সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে প্রতিবেশী ভারতের কুশিনগরে গণ্ডক নদী থেকেও ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ছয়জন নারী ও সাতজন পুরুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় অন্তত ১৬টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
নেপাল সেনাবাহিনীও ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে। এরই মধ্যে আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ২৫৪ জন শ্রমিক ও কারিগরকে উদ্ধার করা হয়েছে। টানেলে আটকে পড়া ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ভারত ও চীনের টানেল উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় অভিযান চলছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৯২৭টি মরদেহ ময়নাতদন্ত ও সংরক্ষণের জন্য সিল করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ৫১টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো ৭২৬টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ৪১৩টি মরদেহ আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দাফন বা ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।
বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বহু মানুষ। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৯৭০ জনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বিষ্ণুমতী নদী নিয়ে। কাঠমান্ডুর গঙ্গাবু এলাকার কাছে নদীটির পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সুত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে