ভারত থেকে আমদানি বাড়লেও ভারতে বাংলাদেশের কমেছে রপ্তানি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে দুই দেশের নানা বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে…
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তানে পুষ্টিহীনতা বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। দেশটির পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু খর্বকায়, যার কারণে শৈশবেই তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের এই অপুষ্টির প্রভাব শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। শৈশবে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে তাদের শিক্ষা, কর্মক্ষমতা ও আয় করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর সামগ্রিক প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুষ্টিহীনতার কারণে পাকিস্তানকে প্রতি বছর ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
পাকিস্তানে শিশুপুষ্টির সংকটের পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্যের অবস্থাও উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি ১ লাখ জীবিত শিশু জন্মের বিপরীতে ১৫৫ জন মায়ের মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মা ও শিশুর পুষ্টির ঘাটতি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
শিশুদের খর্বকায় হওয়ার পেছনে গর্ভাবস্থায় মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া, জন্মের পর শিশুকে সঠিকভাবে খাবার না খাওয়ানো, ঘন ঘন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এসব ঝুঁকি আরও বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থসংকটের সময় পাকিস্তানের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানোকে অনেক সময় সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু শৈশবে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। এতে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষতি একটি প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরবর্তী প্রজন্মেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পুষ্টিহীনতা মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়, এটি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ তৈরির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
এ পরিস্থিতিতে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে পাকিস্তানে ‘অ্যাক্ট ফর নিউট্রিশন’ নামে একটি বৈশ্বিক প্রচারাভিযান ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নেতা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রাদেশিক সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
সম্মেলনে দারিদ্র্য, মা ও শিশুর সঠিক খাদ্যাভ্যাস, দুর্বল শাসনব্যবস্থা, পুষ্টি খাতে অপ্রতুল বিনিয়োগ এবং জলবায়ুগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা হবে। পাকিস্তানের শিশুদের পুষ্টিহীনতা কমিয়ে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপের পথ খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au