বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ

ভারত থেকে আমদানি বাড়লেও ভারতে বাংলাদেশের কমেছে রপ্তানি 

  • 4:00 pm - September 02, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৩৫ বার
ভারত থেকে আমদানি বাড়লেও ভারতে বাংলাদেশের কমেছে রপ্তানি ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে দুই দেশের নানা বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় অপরিবর্তিত থেকে সামান্য কমেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশ ১০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি সামান্য কমেছে। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বড় হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত থেকে যত পণ্য রপ্তানি করে, তার তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি পণ্য আমদানি করছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের সুতা, তুলা, কাপড় ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা বাংলাদেশে এখনো অনেক বেশি। এসব পণ্য তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক দামে পাওয়া যায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের একটি অংশ নির্দিষ্ট ধরনের কাপড় ও সুতা ব্যবহারের শর্ত দেওয়ায় বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে হচ্ছে।

চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের বিপুল ঘাটতি রয়েছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বড় বাধা রয়েছে। ভারতের নিজস্ব বিকল্প পণ্যের সরবরাহ, বিভিন্ন মান নিয়ন্ত্রণ ও মানদণ্ড এবং দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন গড়ে না ওঠাকে তিনি অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

২০১০ সালে সার্কের স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ২৫টি অ্যালকোহল ও পানীয় পণ্য ছাড়া প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দেয় ভারত। এরপর দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়লেও তা আমদানির তুলনায় যথেষ্ট না হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেনি।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধও চালু হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে স্থানীয় বস্ত্র ও সুতা শিল্পকে সুরক্ষা দিতে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি সীমিত করার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ। পরে ভারতও বাংলাদেশি তৈরি পোশাক, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাটজাত পণ্য, আসবাবসহ বিভিন্ন পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে।

তবে এসব বিধিনিষেধের মধ্যেও ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধের পর সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। তাঁর দাবি, আগে স্থলবন্দর দিয়ে আসা কিছু সুতা অনানুষ্ঠানিক পথেও দেশে প্রবেশ করত।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পর্যায়ে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, স্থলবন্দর দিয়ে আরও বেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা গেলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশ বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সাম্প্রতিক বাণিজ্য বিরোধের অর্থনৈতিক প্রভাব থাকলেও এর সমাধানের জন্য দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত। সম্পর্কের উন্নতি হলে উভয় দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সম্মানসূচক যুগ্ম মহাসচিব মো. আবদুল ওয়াহেদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর স্থলবন্দর দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই শাখার আরও খবর

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ঝরল ১০ প্রাণ, আহত আরও ২০

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে ভোরের আলো ফোটার আগেই সড়কে ঝরল ১০ প্রাণ। যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।…

‘আমি ভয় পাই না’, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা আবারও বললেন শেখ হাসিনা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আবারও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে পারেন বলে…

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানত না সরকার

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিস্তারিত জানতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশের দূতাবাস বা…

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণনির্ভর!

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নিত্যদিনের খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না আয়। সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাই ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশের বহু পরিবারকে।…

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার সংকট কেন কাটছে না?

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই—বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধের সমষ্টি হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা কঠিন। দীর্ঘদিনের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au