মহাসাধক বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী: অলৌকিক সাধনা ও বিপন্ন মানুষের পরম আশ্রয়
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও চেতনার দিগন্তে এক ধ্রুবতারার নাম লোকনাথ ব্রহ্মচারী। আধ্যাত্মিকতার এমন এক উচ্চ শিখরে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন, যেখানে অসীম করুণা আর অলৌকিক শক্তির…
গাজা সিটির জয়তুন এলাকায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স। নিহত সবাই মালকা পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা তিন দিন ধরে ওই ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে এসব মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
প্রায় দুই বছর আগে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের সময় মালকা পরিবারের সদস্যরা ওই ভবনটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলার পর ভবনটি ধসে পড়ে এবং পরিবারের বহু সদস্য ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধার কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু দান জানান, তিন দিন ধরে ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেখানে ৬০ জনের বেশি মানুষের মরদেহ বা দেহাবশেষ থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে বহু মানুষ তাঁদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করতে পারেননি। ধসে পড়া বাড়িঘর ও ভবনের নিচে আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
জয়তুনের ওই ভবনটিও ছিল এমনই একটি স্থাপনা, যেখানে মালকা পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের পর ভবনটি ধসে পড়লে পরিবারের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
এ ধরনের উদ্ধারকাজ গাজায় অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি, বুলডোজার ও ট্রাকের ঘাটতির কারণে অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে চলছে। সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে।
উদ্ধার করা মরদেহ ও দেহাবশেষ শনাক্তকরণ ও সংগ্রহের পর মালকা পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে তাঁদের একটি যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে দীর্ঘ সময় পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। গত আগস্টেও গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি বিমান হামলায় নিহত আবু শারিয়া ও আল-হাসায়না পরিবারের ১১২ সদস্যের মরদেহ ও দেহাবশেষ কয়েক বছর পর উদ্ধার করা হয়। তাঁদের জন্য একটি যৌথ জানাজার আয়োজন করা হয়েছিল।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের হিসাবে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এখনো হাজার হাজার মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এসব মরদেহ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগছে।
সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের মরদেহ উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে গাজার উদ্ধার সংস্থাগুলোর সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় ভবনের ধ্বংসস্তূপ এতটাই বড় যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়া সেখানে মানুষের পক্ষে তল্লাশি চালানো প্রায় অসম্ভব।
ফলে কোনো কোনো পরিবারের স্বজনেরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের মরদেহ উদ্ধারের আশায়। গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা মরদেহের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন হিসাব থাকলেও উদ্ধারকাজের সীমাবদ্ধতার কারণে সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন।
জয়তুনে মালকা পরিবারের ৫৫ সদস্যের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনাটি সেই দীর্ঘ অপেক্ষার আরেকটি করুণ অধ্যায়। পরিবারের স্বজনেরা এখন অপেক্ষা করছেন মরদেহগুলো যথাযথভাবে দাফন করার জন্য।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কায় তল্লাশি অব্যাহত থাকবে।
সূত্র:আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au