কোণঠাসা বিজেপি কি ফের কট্টর হিন্দুত্বের পথে?
টানা আড়াই দশক ধরে ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নানা কারণে এখন কিছুটা চাপে। এই পরিস্থিতিতে দলটি আবারও কট্টর হিন্দুত্বের রাজনীতির…
ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানো যে তাঁদের জন্য কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা জানতেন ফুটবলার আতেফেহ রামেজানিসাদেহ ও ফাতেমেহ পাসানদিদেহ। কারাবাস, পরিবারের ওপর চাপ এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল। তবু নিজেদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াননি তাঁরা।
ছয় মাস পর সেই দুই ফুটবলার এখন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। ব্রিসবেনে নতুন জীবন শুরু করেছেন তাঁরা। অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া তাঁদের দলের একমাত্র দুই সদস্যও তাঁরা।
ঘটনার শুরু গত মার্চে গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ থেকে। টুর্নামেন্টে ইরানের নারী ফুটবল দল জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় নীরব দাঁড়িয়ে ছিল। দেশটিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহত বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানাতেই তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
‘৬০ মিনিটস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাসানদিদেহ বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাঁরা ভয় পেয়েছিলেন। তবে সঠিক কাজটিই করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা শুধু আমাদের দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম।’’
তাঁদের এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়া ছিল কঠোর। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খেলোয়াড়দের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় এবং তাঁদের শাস্তির দাবি ওঠে।রামেজানিসাদেহ জানান, দেশে ফিরে গেলে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কার কথাও তিনি জানতেন। তারপরও জাতীয় সংগীত গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘‘যে বিষয়টি আমাকে শান্তি ও স্বচ্ছ বিবেক দিয়েছে, তা হলো জাতীয় সংগীত না গাওয়া।’’

ইরানের নারী ফুটবল দল জাতীয় সংগীত গাওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। — ৬০ মিনিটস
এশিয়ান কাপের পর সাতজন খেলোয়াড়কে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশে থাকা স্বজনদের ওপর সরকারের তীব্র চাপের কারণে তাঁদের পাঁচজন শেষ পর্যন্ত ইরানে ফিরে যান।
তবে রামেজানিসাদেহ ও পাসানদিদেহ নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক তাঁদের দুজনকে দেশটির নাগরিকত্ব দেন।
বর্তমানে ব্রিসবেনের উইনাম উলভস ক্লাবের হয়ে অনুশীলন করছেন দুই ফুটবলার। পাশাপাশি ইংরেজি শিখছেন এবং থেমে যাওয়া ফুটবল ক্যারিয়ার নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
অস্ট্রেলিয়া তাঁকে কী দিয়েছে, এক শব্দে বলতে বলা হলে পাসানদিদেহের উত্তর ছিল, ‘‘স্বাধীনতা।’’
সূত্র:নাইন.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au