চুল কাটতে বেরিয়ে ৭ মাস পর এক পা হারিয়ে ফিরল রায়হান
মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ সাত মাস। অবশেষে গত ১৩ সেপ্টেম্বর…
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ‘আঞ্চলিক পুলিশের’ ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্রের থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদেরই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের কোনো আঞ্চলিক পুলিশের দরকার নেই।’ তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা কেবল এ অঞ্চলের মূল পক্ষ এবং দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।
পেজেশকিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি বাইরের কোনো শক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ইরানের জনগণ বিভিন্ন ধরনের অবিচারের শিকার হলেও তাঁর দেশ যুদ্ধ চায় না এবং চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হোক, সেটিও চায় না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণ নানা অবিচারের শিকার হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা যুদ্ধ চাই না, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক তা-ও চাই না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গভীর সংকটের মধ্যে ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়।
ওই হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এর পাশাপাশি তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে নৌপথটিকে কার্যত বন্ধ করে দেয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বা দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা থাকলেও সাম্প্রতিক সংঘাতের পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরান নিজেদের কৌশলগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে নৌপথটির ওপর চাপ বজায় রাখছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু তেলের দাম নয়, বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেই এর প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে উৎপাদন, পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ভোক্তা পর্যায়েও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সংঘাত শুরুর ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার কোনো স্পষ্ট আভাস দেখা যায়নি। বরং সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের ‘আঞ্চলিক পুলিশ’ প্রসঙ্গে মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির সরাসরি সমালোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় বাইরের সামরিক শক্তির ভূমিকার বিরোধিতা করা হয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইরানের অবস্থান হলো, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। তেহরান মনে করে, বাইরের শক্তির সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার মধ্যে পেজেশকিয়ানের শান্তির বার্তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বা ‘আঞ্চলিক পুলিশের’ ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করছে। দ্বিতীয়ত, সামরিক সংঘাতের মধ্যেও ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। তবে এই অবস্থানের সঙ্গে বাস্তব সামরিক পরিস্থিতির কতটা সমন্বয় ঘটবে, সেটিই এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au