আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে সারাদেশে গ্রেপ্তার ৫৩
আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বের করা মিছিলকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল…
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাছে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের মানবিক ভূমিকা প্রশংসা কুড়িয়েছে। নৌকাডুবির পর স্রোতে ভেসে ভারতীয় জলসীমায় চলে যাওয়া ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে বিএসএফ। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মায়ের কোলে থাকা মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশাও ছিল।
পরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই ১০ বাংলাদেশিকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে নৌকাডুবির ঘটনায় একজন বৃদ্ধ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী এলাকা থেকে জোহরপুর-টেকের দিকে যাওয়ার সময় পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে মোট ১২ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতি এবং তাদের মাত্র ২০ দিন বয়সী সন্তান তানিশা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাডুবির পর যাত্রীরা পদ্মার তীব্র স্রোতে ভেসে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশি ভারতের জলসীমায় চলে যান। সেখানে তাদের দেখতে পেয়ে বিএসএফের সদস্যরা উদ্ধার করেন।
বিশেষ করে মাত্র ২০ দিনের শিশুটিকে মায়ের কোলে নিরাপদে উদ্ধারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। নৌকাডুবির মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে এত ছোট একটি শিশুকে উদ্ধার করে নিরাপদে রাখার ঘটনায় বিএসএফের সদস্যদের প্রশংসা করছেন অনেকে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় বিএসএফের খানদোহা ক্যাম্পের সদস্যরা ১০ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
তিনি বলেন, রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বিএসএফ উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তবে নৌকাডুবির ঘটনায় একজন বৃদ্ধ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে স্থানীয়ভাবে খোঁজ চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে শিশু তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিএসএফের ভূমিকার প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা। উদ্ধার-সংক্রান্ত ভিডিও ও পোস্টের মন্তব্যে অনেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বাবুল হোসেন নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ ভারতীয় বিএসএফকে। আসলে সম্পর্ক তৈরি হয় আন্তরিকতা আর কাজের মাঝে। আশা করি প্রতিবেশী দুই দেশ মিলে মিশে থাকবে। প্রতিবেশী ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকে না। পৃথিবী শান্তি ও সৌহার্দ্যের।’
নাজমুল হক নামের আরেকজন লেখেন, ‘মানবতার জয় হোক। অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভারতীয় বিএসএফ।’
নায়েম ইসলাম নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য শুভকামনা রইল।’
নদীভাঙন ও তীব্র স্রোতের কারণে সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীতে নৌযাত্রা বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে নৌকাডুবির ঘটনায় একটি ২০ দিনের শিশুসহ ১০ জন ভারতীয় জলসীমায় ভেসে যাওয়ার পর বিএসএফের হাতে উদ্ধার হওয়া এবং পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনাটি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়েরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au