আওয়ামী লীগকে নতুন রূপে ফেরানোর চেষ্টা চলছে, দাবি গোলাম পরওয়ারের
আওয়ামী লীগকে নতুন রূপে সাজিয়ে আবারও রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের…
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছ রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ভারতের মাছ আমদানিকারকদের একটি সংগঠন। কলকাতাভিত্তিক ওই সংগঠন শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে ইলিশ রপ্তানি পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতের মাছ আমদানিকারক সমিতি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে তারা প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করে আসছে। এ কারণে দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ সরকার যেন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়, সে বিষয়ে তারা বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ১৯৯৬ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল এবং ত্রিপুরার আখাউড়া সীমান্তের স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করে আসছে তারা। চিঠিতে বলা হয়, ‘১৯৯৬ সাল থেকে আমরা বাংলাদেশ থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর, পশ্চিমবঙ্গ এবং আখাউড়া স্থলবন্দর, ত্রিপুরার মাধ্যমে ইলিশ মাছ আমদানি করে আসছি।’
তবে ২০১২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর দুই দেশের এই বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। আমদানিকারক সংগঠনটি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য এরপর থেকে তারা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে এলেও এতদিন তাতে সাড়া মেলেনি।
চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, ২০১২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য তারা নিয়মিতভাবে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ফল হয়নি।
পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সীমিত পরিমাণে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ দেয় বাংলাদেশ। তবে আমদানিকারকদের দাবি, এই ব্যবস্থা বাস্তবসম্মতভাবে কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ দুর্গাপূজার মৌসুমে মাত্র এক মাসের জন্য বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়, যা ইলিশ আমদানি, পরিবহন ও বাজারজাত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নয়।
ভারতীয় আমদানিকারকরা বলছেন, দুর্গাপূজার আগে ইলিশের চাহিদা পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের মানুষের খাদ্য ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা নিয়মিতভাবে ইলিশ আমদানির সুযোগ চান।
আমদানিকারক সংগঠনটি চিঠিতে দুই বাংলার মানুষের ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও তুলে ধরেছে। তাদের ভাষ্য, এপার বাংলা ও ওপার বাংলার মানুষের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। ভাষা, খাবার ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। এ কারণে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম ও ত্রিপুরার মাছপ্রেমীদের কাছেও বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশের ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, দুই বাংলার মানুষের খাদ্যসংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা ঐতিহ্যগতভাবেই বেশি থাকে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকারকরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ আবারও সীমিত পরিসরে হলেও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেবে।
বাংলাদেশে ইলিশ দেশের জাতীয় মাছ এবং এর প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরা ও রপ্তানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিশেষ করে মা ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা রক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইলিশ ব্যবস্থাপনা করা হয়। ফলে বিদেশে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে একদিকে সংরক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অন্যদিকে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও রপ্তানি আয়, এই দুই দিকই বিবেচনায় নিতে হয়।
এর মধ্যেই দুর্গাপূজার আগে ভারতীয় আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে নতুন করে ইলিশ রপ্তানির দাবি সামনে এলো। এখন বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে দুই দেশের ইলিশ ব্যবসায়ী ও মাছপ্রেমীদের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au