মোদিকে দ্রুত ইরান সফরের আমন্ত্রণ পেজেশকিয়ানের
ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান শেষে নয়াদিল্লি ছেড়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিগগিরই ইরান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।…
ইউক্রেনের পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। হামলার মাত্র কয়েক মিনিট আগে ওই এলাকা দিয়ে তাদের বহনকারী একটি কূটনৈতিক ট্রেন চলে যাওয়ায় সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রোববার ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইয়াহোদিন স্টেশনের আশপাশে একটি রেললাইনে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলন শেষে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের বহনকারী কূটনৈতিক ট্রেনটি পোল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেনটি ইয়াহোদিন স্টেশন ছেড়ে যাওয়ায় হামলার সময় সেটি ওই এলাকায় ছিল না।
ট্রেনটিতে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন। ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, রুশ ড্রোনটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল ওই কূটনৈতিক ট্রেন।
হামলায় একটি ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এতে থাকা কোনো ব্যক্তি আহত হননি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হামলার পর ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
কার্ল বিল্ডট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার এলাকার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতে ইয়াহোদিন স্টেশনের কাছে হামলার চিহ্ন দেখা যায়। তিনি জানান, তাদের বহনকারী ট্রেনটি হামলার শিকার হয়নি। তবে কয়েক মিনিট পর পোল্যান্ড সীমান্তের দিকে যাওয়া আরেকটি ট্রেন ওই এলাকায় অবস্থান করছিল।
রুশ ড্রোনটি এগিয়ে আসার সময় ওই ট্রেনের যাত্রীদের দ্রুত নামিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে ওই ট্রেনের কোনো যাত্রীও আহত হননি। কার্ল বিল্ডট বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ওই সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক ডেভিড পেট্রিয়াসকে বহনকারী আরেকটি ইঞ্জিনও অবস্থান করছিল। আকাশ থেকে আসা একটি ড্রোন ওই সময় বিস্ফোরিত হয়।
রেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, রুশ হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় ট্রেন ও যাত্রীদের নিরাপদ রাখতে তারা নিয়মিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো ট্রেনের যাত্রার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
হামলার পর বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইউক্রেনীয় রেল ইঞ্জিনে হামলার পেছনে রাশিয়ার কী যুক্তি থাকতে পারে। জনসনের ভাষ্য, ইউক্রেনের মানুষ প্রতিদিন এমন হামলার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং দেশটির বেসামরিক রেলপথও এখন নিরাপদ নয়।
বরিস জনসন ও কার্ল বিল্ডটসহ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা কিয়েভে অনুষ্ঠিত ইয়াল্টা ইউরোপীয় কৌশল সম্মেলনে অংশ নিতে ইউক্রেনে গিয়েছিলেন। প্রতি বছর আয়োজিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যবসা, প্রতিরক্ষা ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এদিকে একই সময়ে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে আরেকটি ঘটনাও ঘটে। সীমান্ত নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি, পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে এক মাইলেরও কম দূরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকে একটি চালকবিহীন আকাশযান আঘাত হানে। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে ইয়াহোদিন-দোরোহুস্ক সীমান্ত চেকপোস্টের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
সব মিলিয়ে পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পরপর ড্রোন হামলা ও নিরাপত্তা ঘটনার কারণে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ রেল ও সীমান্ত যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au