জাভা সাগরে ফেরি উল্টে নিহত ৬, নিখোঁজ ১২৯
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামে একটি যাত্রীবাহী ফেরি উল্টে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১২৯ যাত্রী। দুর্ঘটনার…
সুইডেনের সাধারণ নির্বাচনে এখনো কোনো পক্ষের জয় নিশ্চিত হয়নি। ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সামাজিক গণতন্ত্রী দলের নেত্রী ম্যাগদালেনা আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত ৯০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে তখন বামপন্থী জোট প্রায় ২০ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। পরে ৯৪ শতাংশ ভোট গণনার হিসাবে আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন জোট ১৭৬টি আসনে এগিয়ে ছিল। বিপরীতে বর্তমান রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে ১৭৩টি আসন। দুই জোটের ব্যবধান মাত্র তিনটি আসন।
তবে ভোট গণনা পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ফলাফল পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সুইডেনের বড় কোনো সংবাদমাধ্যম এখনো কোনো পক্ষকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি।
সুইডেনের রাজনীতিতে বর্তমানে দুটি বড় জোট রয়েছে। প্রতিটি জোটে চারটি করে দল রয়েছে। কোনো জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে জোট সরকার ও সংখ্যালঘু সরকার গঠনের নজিরও রয়েছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দল। দলটির রাজনৈতিক শিকড় নব্য নাৎসিবাদে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রিস্টেরসন ক্ষমতায় থাকলে এই দলের সদস্যদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে দলটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সোমবার ভোরে সমর্থকদের উদ্দেশে ক্রিস্টেরসন বলেন, পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। ভোটাররা তাদের মতামত জানিয়েছেন, তবে চূড়ান্ত ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। আগামী বছরগুলোতে সুইডেনের নেতৃত্বে কোন সরকার থাকবে, সেটি এখনো খোলা প্রশ্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে রোববার রাতে সমর্থকদের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন ম্যাগদালেনা আন্দেরসন। তবে তিনি জানান, বর্তমান ফলাফল শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকলে সুইডেনে নতুন সরকার গঠিত হবে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সামাজিক গণতন্ত্রী দল প্রায় ২৮ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে। এই ফল চূড়ান্ত হলে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দলটির সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী ফল হতে পারে। তবে বামপন্থী জোটের অন্য কয়েকটি দল, বিশেষ করে বাম দল, গ্রিনস ও সেন্টার পার্টির সমর্থন বেড়েছে।
অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলও এবার ভোট হারিয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে। ১৯৮০-এর দশকে নাৎসি সমর্থকদের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি দীর্ঘদিন সুইডেনের মূলধারার রাজনীতির বাইরে ছিল। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে অভিবাসন ও সহিংস অপরাধের মতো বিষয়কে সামনে রেখে প্রচার চালিয়ে দলটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়।
এবারের নির্বাচনে দলটির সমর্থন কমার পাশাপাশি ভোটার উপস্থিতিও কিছুটা কমেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় চার শতাংশ কম।
নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং অপরাধ এবং সামাজিক কল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ভোট দেওয়ার পর ম্যাগদালেনা আন্দেরসন প্রশ্ন তোলেন, সুইডেন এমন একটি সরকার চায় কি না, যার ওপর সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের বড় ধরনের প্রভাব থাকবে, নাকি নতুন রাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তার নেতৃত্বে সরকার গঠন হবে।
অন্যদিকে উলফ ক্রিস্টেরসন বলেন, তার জোট যাতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারে, সেটিই মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সুইডেনে আসন বণ্টন হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। দেশটির পার্লামেন্ট রিক্সদাগে কোনো দলকে আসন পেতে সাধারণত অন্তত ৪ শতাংশ ভোট পেতে হয়। তাই চূড়ান্ত ফলাফলে ছোট দলগুলোর অবস্থান সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে, ম্যাগদালেনা আন্দেরসনের বামপন্থী জোট সরকার গঠন করবে, নাকি উলফ ক্রিস্টেরসনের বর্তমান জোট ক্ষমতা ধরে রাখবে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au