সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত অন্তত ৮২, আরও অনেকে নিখোঁজ
সুদানের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি অনানুষ্ঠানিক সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা…
ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় প্রথমবারের মতো আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি সিভিল ডিফেন্স মক্কা, জেদ্দা ও তাইফসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে এ সতর্কতা জারি করে। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।
মক্কায় এ ধরনের সতর্কতা জারির ঘটনা নজিরবিহীন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেন থেকে সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সতর্কতা জারির সময় মক্কায় কোনো হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, মক্কা নগরীতে বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে, জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং কোনো ধরনের ছবি বা ভিডিও ধারণ না করতে বলা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
মক্কায় সতর্কতা জারির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক বছরের মধ্যে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের অন্যতম বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের হামলা চালায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে এবং তেল-সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। এতে ৭৩ জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরদিন, ১৫ সেপ্টেম্বর, পশ্চিম ইয়েমেনে হুথিদের একটি হামলায় সরকারি বাহিনীর আট সেনা নিহত হয়েছেন বলে দুটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে। একই সময়ে হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের আরেকটি হামলার দায় স্বীকার করে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, ওই হামলায় তারা ‘কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ ব্যবহার করেছে।
হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ চলাচলেও প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হায়োমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। পশ্চিম ইয়েমেনে তাইজের কাছে সৌদি সমর্থিত বাহিনী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর হামলার পর ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের পুনরুত্থানকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এরপর তারা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেয়।
হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ জানিয়েছেন, ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের কথিত আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তাঁদের পক্ষ থেকেও হামলার জবাব অব্যাহত থাকবে এবং তা আরও বাড়তে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের কর্মকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হুথিদের প্রতিক্রিয়াও চলবে।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে ঘিরেও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে কোনো ধরনের বাধা বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
১৫ সেপ্টেম্বর কাতার সতর্ক করে বলেছে, বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে এর গুরুতর আন্তর্জাতিক প্রভাব পড়তে পারে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি এমন পরিস্থিতিকে ‘পুরো বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাইলেও ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হুথিরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়াতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত আবারও সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে মক্কার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি নগরীতে প্রথমবারের মতো আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি হওয়ায় পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যদিও মক্কায় কোনো হামলা আঘাত হেনেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়নি, তবু ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পরিসর সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছানো দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরগুলোতে নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। মক্কায় সতর্কতা জারির পর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জমায়েত ও ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকতে বলেছে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এর প্রভাব শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। লোহিত সাগরের নৌপথ, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মক্কায় তাৎক্ষণিক হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে জারি করা সতর্কতার সময়সীমা শেষ হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য অর্গানাইজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au