বিশ্ব

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত অন্তত ৮২, আরও অনেকে নিখোঁজ

  • 5:33 am - September 17, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৫৪ বার
সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত অন্তত ৮২। ছবিঃ সংগৃহীত

সুদানের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি অনানুষ্ঠানিক সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা ও অধিকারকর্মীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দেশটির পশ্চিম কর্ডোফান প্রদেশের নুহুদ শহরের আল-জারা সোনার খনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।

জরুরি সাড়া প্রদানকারী সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’-এর সদস্য সুলেইমান আবু হুমাইদা বলেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তবে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সুদানের যুদ্ধকবলিত বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করে আসছে ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস।

একজন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাও ৮২টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, রোববার খনির একটি সুড়ঙ্গে ধস শুরু হয়। পরে ধস ছড়িয়ে পড়ে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত অন্য সুড়ঙ্গগুলোতেও। উদ্ধারকাজে বর্তমানে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ফর্কলিফট ছাড়া বড় কোনো যন্ত্রপাতি নেই। ফলে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ব্যাপক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খায়ের আল-সাইয়েদ গাবারা এপিকে ফোনে বলেন, ধসের পর পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়ে। ধসে পড়া মাটি ও পাথর সরিয়ে শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সেখানে নেই।

তিনি বলেন, ৩০ মিটারের বেশি গভীরতা থেকে মাটি ও পাথর সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালানোর মতো সরঞ্জাম তাদের হাতে নেই। দুর্ঘটনার সময় খনিতে কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলেও জানান তিনি।

আরেক জীবিত শ্রমিক আল-আমিন সুলেইমান জানান, বুধবার সকালে পর্যন্ত ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তখনও খনির ভেতরে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা ছিলেন।

এর আগে যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী চিকিৎসকদের সংগঠন ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ জানিয়েছিল, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল সংগঠনটি।

সংগঠনটি আরও জানায়, আল-জারা একটি অনানুষ্ঠানিক সোনার খনি, যেখানে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়া হয়। খনিটিতে শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না।

তবে দুর্ঘটনার সময় নিয়েও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কয়েকজন জীবিত শ্রমিক এবং চিকিৎসকদের সংগঠনটি জানিয়েছিল, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধসের সূত্রপাত হয়েছিল রোববার একটি খনির সুড়ঙ্গে।

‘কর্ডোফান অবজারভেটরি’ নামের একটি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্তত ৭০ জন শ্রমিক নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, খনিটি প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং অঞ্চলটির মাটি বালুময় ও নরম হওয়ায় ধসের ঝুঁকি বেশি।

সুদান আফ্রিকার অন্যতম বড় সোনা উৎপাদনকারী দেশ হলেও দেশটিতে ছোট আকারের ও অনানুষ্ঠানিক খনিতে দুর্ঘটনা নতুন নয়। খনি পরিচালনায় নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০২৩ সালে সুদানে একটি সোনার খনি ধসে ১৪ জন শ্রমিক নিহত হন। ২০২১ সালের আরেকটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৩৮ জন।

সুদানের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি খনি শ্রমিকদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার ছোট ও অনানুষ্ঠানিক সোনার খনি রয়েছে। যুদ্ধের কারণে এসব খনিতে নিরাপত্তা তদারকি ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের জন্য কাজ করা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানের সোনা পাচারের একটি বড় অংশ দেশটির সংঘাতে অর্থ জোগাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে দারফুর ও কর্ডোফানের সোনা উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা আরএসএফের অর্থায়নের সঙ্গে সোনা বাণিজ্যের যোগসূত্র রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘাতে দেশটির বড় একটি অংশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সংঘাতের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, প্রকৃত প্রাণহানি এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ সংঘাতপূর্ণ ও দুর্গম এলাকাগুলোর সব মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সোনার খনি ধসের সর্বশেষ ঘটনাটি তাই শুধু একটি খনি দুর্ঘটনা নয়, বরং যুদ্ধকবলিত সুদানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা, অনানুষ্ঠানিক খনি ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। উদ্ধারকারী দলের হাতে পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় ধ্বংসস্তূপের গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

সূত্রঃ এপি

এই শাখার আরও খবর

তৃণমূলের দুই পক্ষই চায় জোড়াফুল, প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার সম্ভাবনা

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষ কোন প্রতীকে ভোটে লড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক চেয়ে…

বাংলাদেশকে ‘নতুন’ পাকিস্তান বানাতে চায় কারা?

ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বাঙালি…

দুই বছর ধরে কারাগারে শ্যামল দত্তসহ সাংবাদিকরা, মুক্তির দাবি

দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তসহ কয়েকজন সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক…

মক্কায় রেড এলার্ট জারি, হুথিদের হামলায় বাড়ছে সৌদি নিরাপত্তা ঝুঁকি

ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় প্রথমবারের মতো আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি…

আরও তিন মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন ডাকসুর নেতারা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছরের নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ আরও…

বাঁচতে চান ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত নগেন, পাশে দাঁড়ানোর আকুতি পরিবারের

কুড়িগ্রামের উলিপুরের নগেন চন্দ্রের জীবন এখন হাসপাতালের বিছানায় থমকে আছে। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au