পারথের সৈকতে হাঙরের হামলা, নিখোঁজ সাঁতারুর মৃত্যুর আশঙ্কা
অস্ট্রেলিয়ার পারথের একটি সৈকতে হাঙরের হামলার ঘটনায় এক সাঁতারুর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে সোরেন্টো বিচে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার…
জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে নতুন করে কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এর আওতায় সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো, নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত এবং সরকারি নৈশভোজ আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে এসব পদক্ষেপের কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অর্ধেক কমানো হবে। একই সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মী-সংক্রান্ত নয় এমন সরকারি ব্যয়ের বাজেট ৫ শতাংশ কমানো হবে।
নতুন নির্দেশনায় সরকারি দপ্তরগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ছাড়া সব ধরনের টেকসই পণ্য কেনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় আইটি সরঞ্জাম ছাড়া আসবাব, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী পণ্য কেনা যাবে না।
আগামী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ সফর ও ভ্রমণ স্থগিত থাকবে। তবে বৃত্তির আওতায় পরিচালিত সফর এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রয়োজন হলে সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে টেলিকনফারেন্স ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে জ্বালানি ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে ভ্রমণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
এ ছাড়া সরকারি নৈশভোজ আয়োজন বন্ধের পাশাপাশি দেশটির সব ধরনের বিয়ের অনুষ্ঠান ও আয়োজনে মাত্র একটি পদ পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে একই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সে সময় জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য দেশটির সব স্কুল দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি সম্ভব হলে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
তবে এবার নতুন করে কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো এমন সময়ে, যখন পাকিস্তান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপেও রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে পাকিস্তানের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম।
গত মঙ্গলবার দেশটিতে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৪.১০ পাকিস্তানি রুপি এবং উচ্চগতির ডিজেলের দাম ৬.৪১ রুপি বাড়ানো হয়। ফলে পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ৩৮৪.৩৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৪১৫.৮৩ রুপি।
জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক জানিয়েছেন, জ্বালানি ত্রাণ প্রকল্পের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশের চাপ ভোক্তাদের ওপর থেকে কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।
বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন একটি নীতির আওতায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকদের প্রতি লিটার জ্বালানিতে ১০০ পাকিস্তানি রুপি, যা প্রায় ৩৬ মার্কিন সেন্ট, ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এ সুবিধা পেতে মাসিক জ্বালানি ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা মানতে হবে।
আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির মধ্যে সরকার এখন জ্বালানি ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
নতুন কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের সময়ে সরকারি ব্যয় ও ব্যবহার কমিয়ে পরিস্থিতির ওপর চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।
সূত্র- রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au