ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। গত দুই দিনের সংঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫৪ জন নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এএফপি।
হুথিদের সামরিক সূত্রের দাবি, সৌদি আরবের বিমান হামলা, স্থল সংঘর্ষ ও কামানের গোলাবর্ষণে তাইজ, আল-জাওফ, মারিব ও সা’দা প্রদেশে তাদের পক্ষের ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, তাদের পক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী নাজরান অঞ্চলে মঙ্গলবার সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করা হলেও পরে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ওই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে। নাজরান ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলা থেকে সরে এসেছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধের পর ট্রাম্প প্রশাসন রোববার হুথিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। এমনকি হামলার জন্য যুদ্ধবিমান প্রস্তুত এবং তাতে বোমা লোড করার কাজও শুরু হয়েছিল। পরে শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রা জোরদার হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের চেষ্টা করছে, যাতে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন করা যায়।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটা কমে এসেছিল। তবে চলতি বছরের জুলাই থেকে আবার লড়াই শুরু হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
সংঘাতের নতুন করে বিস্তারের ফলে ইয়েমেনের পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত শনিবার হুথিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদে হামলার দাবি করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের সংঘাত লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিতিশীলতা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স