হুথি হামলা ঘিরে সৌদি আরবে বৈঠকে বসছেন তুরস্ক-পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর উপায় নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। শুক্রবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে…
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের উত্তর প্রদেশের মিরাট ও বারানসিতে নির্ধারিত দুটি জনসংযোগ ও ভোটার সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বা সাম্প্রতিক বিতর্কের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে দুটি অনুষ্ঠান স্থগিতের সময়টি এমন একটি পর্যায়ে এসেছে, যখন নির্বাচন কমিশনের কাজ ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মিরাটের অনুষ্ঠানটি ২৫ সেপ্টেম্বর এবং বারানসির অনুষ্ঠানটি ২৮ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। মিরাটে জ্ঞানেশ কুমারের একটি আঞ্চলিক ‘ইলেকটোরাল লিটারেসি ক্লাব’ বা ইএলসি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা ছিল। বারানসিতে তাঁর জেন-জি ভোটারদের সঙ্গে একই ধরনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। দুটি অনুষ্ঠানই এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণে এ ধরনের অনুষ্ঠানের তারিখ পরিবর্তন বা স্থগিত করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলের প্রাপ্যতা, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সময়সূচি এবং প্রাকৃতিক কারণের মতো বিষয় রয়েছে। তাঁর দাবি, মিরাট ও বারানসির অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত ২১ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছিল। এর আগে হিমাচল প্রদেশ, লাদাখ ও উত্তরাখণ্ডেও ইএলসি সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন বা অনুষ্ঠান স্থগিত করার নজির রয়েছে।
তবে কেন এবারের দুটি অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হলো, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করেনি। একই সময়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের কারণে বিষয়টি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির সঙ্গে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআরসহ ভোটার তালিকা ও কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই কমিশনার গত ১০ মাসে একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁদের আপত্তির মধ্যে ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা, নতুন ভোটার যুক্ত করা, ভোটার বাদ দেওয়া এবং ভোটার তথ্য ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার নিয়ে প্রশ্নও ছিল।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে ‘অননুমোদিত’ ও ‘অবৈধ’ বলে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছেও বিষয়টি নিয়ে লিখেছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবরের প্রেক্ষাপটে জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক।
এই বিতর্কের মধ্যেই বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন নেতা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে শিবিরসহ বিভিন্ন বিরোধী নেতারাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপিও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। দলটির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের সময়সীমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থানের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দলটি।
তবে নির্বাচন কমিশনের অনুষ্ঠানের স্থগিতাদেশকে সরাসরি এই রাজনৈতিক চাপের ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো কোনো সরকারি তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। বরং কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর এবং এর সঙ্গে সাম্প্রতিক বিতর্কের সম্পর্ক নেই।
জ্ঞানেশ কুমারের নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো ছিল মূলত তরুণ ও নতুন ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী সচেতনতা বাড়ানোর অংশ। নির্বাচন কমিশনের ‘ইলেকটোরাল লিটারেসি ক্লাব’ বা ইএলসি কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের গণতন্ত্র, নির্বাচনব্যবস্থা, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ভোটাধিকার, ভোটদান এবং ভোট গণনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ইএলসি কর্মসূচির আওতায় স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কলেজের ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী তরুণদের বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষভিত্তিক কার্যক্রম, আলোচনা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত করার চেষ্টা করা হয়।
এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ‘ইসিনেট’ বা ইসিআইনেট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোটারসেবা ও নির্বাচনী তথ্য সম্পর্কে তরুণদের অবহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। মিরাটের আঞ্চলিক সম্মেলনে ইএলসি ২.০ ও ইসিআইনেট নিয়ে আলোচনা এবং তরুণদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের পরিকল্পনা ছিল।
ইএলসি ২.০ কর্মসূচির আওতায় এর আগে কয়েকটি আঞ্চলিক সম্মেলন হয়েছে। সর্বশেষ অনুষ্ঠানটি ১১ সেপ্টেম্বর গুজরাটের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ভোটার নিবন্ধন, ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন জ্ঞানেশ কুমার।
ফলে মিরাট ও বারানসির দুটি অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠেছে, কবে এসব কর্মসূচি আবার শুরু হবে এবং জ্ঞানেশ কুমারের নির্ধারিত জনসংযোগ কর্মসূচির নতুন তারিখ কবে ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশন আপাতত নির্দিষ্ট কোনো নতুন তারিখ জানায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au