উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদের যে অংশ ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা, এর ইতিহাস কী?
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজকে কেন্দ্র করে একটি পুরোনো মসজিদের অংশ সরানো নিয়ে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের…
দুবাই থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে দুই পাইলটের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উড়োজাহাজটি জর্ডানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় এক পাইলট তাঁর সহ-পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় উড়োজাহাজটি আকস্মিকভাবে নিচে নেমে যায় এবং কিছু সময়ের জন্য সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ছুরিকাঘাতকারী পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই পাইলট যাত্রীসহ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে বর্ণনা করে নেতানিয়াহু এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, উড়োজাহাজে থাকা একজন ইসরায়েলি যাত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। ওই যাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, ককপিটে এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার পর উড়োজাহাজটি ঘূর্ণিপাকে পড়ে যায়।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে একজন যাত্রী ও একজন ক্রু সদস্য ককপিটে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। তাঁরা দুজন মিলে ছুরিকাঘাতকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই পাইলট তখন উড়োজাহাজের বিভিন্ন ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে বিমানের অন্য ফ্লাইট ক্রুরাও ককপিটে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি জর্ডানের আকাশসীমায় ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সেটির নির্ধারিত গন্তব্য ইসরায়েলের পরিবর্তে গতিপথ ঘুরিয়ে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে গ্রেপ্তার পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে উড়োজাহাজে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের দ্রুত ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সম্ভাব্য আরও কোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
‘এটি ছিল হামলার চেষ্টা’
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘটনাটিকে হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, হামলাকারী পাইলটের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করা।
ঘটনার সময় ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি চলছিল। একই সময়ে উড়োজাহাজ থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য বিমানটি ছিনতাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করে।
মাত্র দুই মিনিটে ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বিমান
ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের সময় উড়োজাহাজটির উচ্চতায় নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং ঘটনাটি আরও গুরুতর রূপ নেয়।
জরুরি সংকেত পাঠানোর পর সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সতর্ক হয়ে যায়। উড়োজাহাজটিতে বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ সময় ইসরায়েল সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধবিমান পাঠায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
দুই পাইলটই আহত
বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ঘটনায় উড়োজাহাজটির ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলট দুজনই আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তবে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় কোন পাইলট কী ধরনের আঘাত পেয়েছেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থা কতটা গুরুতর এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সৌদি আরবে তদন্ত
উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। গ্রেপ্তার পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, উড়োজাহাজটি যখন জর্ডানের আকাশসীমায় ছিল, তখন ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে জরুরি সংকেত পাঠানো হয় এবং বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায়।
তবে যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে ককপিটের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরে বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং ছুরিকাঘাতকারী পাইলটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সৌদি তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রাখছে। একই সঙ্গে বিমানে থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au