বিশ্ব

দুই দফা ইনজেকশনেও মরেননি ক্রিস্টা, এবার কী হবে?

  • 12:55 am - October 03, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৮৯ বার
২০০১ সালের জানুয়ারিতে আদালতে দেখা যায় ক্রিস্টা পাইককে। ছবি: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে জেল কর্তৃপক্ষ। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের দুই ডোজ দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী পাইক সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাকে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—একবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এরপর কী করা যায়? পাইককে কি আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য কারাগারে নেওয়া যাবে, নাকি ব্যর্থ প্রক্রিয়ার পর তার সাজা নিয়ে নতুন করে আদালতে লড়াই হবে?

দুই ডোজের পরও মৃত্যু হয়নি

গত বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ তাকে পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ দেওয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রক্রিয়ার সময় পাইক জীবিত ছিলেন এবং তার নাক ডাকার শব্দও শোনা যায়। পরে তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

টেনেসির সংশোধন বিভাগ অবশ্য বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমোদিত প্রটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ব্যবহৃত ওষুধ আগে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় ডোজের পর অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপের বিধান নেই।

এখানেই তৈরি হয়েছে বড় একটি জটিলতা। টেনেসির লিখিত প্রটোকলে প্রথম ডোজের পর প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় সেটের সিরিঞ্জ ব্যবহারের কথা রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজের পরও কোনো বন্দী বেঁচে থাকলে এরপর কী করতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

এখন ক্রিস্টার কী হবে?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তার শারীরিক অবস্থা। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পাইক সংকটাপন্ন এবং জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা চলছে। তার দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছিল কি-না এবং এতে মস্তিষ্কে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি-না, সেটিও এখন চিকিৎসকদের মূল্যায়নের বিষয়। এর পাশাপাশি শুরু হবে আইনি লড়াই।

পাইকের আইনজীবীরা ইতিমধ্যে তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তাদের যুক্তি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রক্রিয়াটি পাইকের ওপর গুরুতর শারীরিক যন্ত্রণা তৈরি করেছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তার মূল মৃত্যুদণ্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ‘দুইবার চেষ্টা ব্যর্থ, তাই আর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না’—এমন সরল আইনি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্ত, তদন্তের ফল এবং পাইকের আইনজীবীদের করা নতুন আইনি আবেদনের ওপর।

তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি এ বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর ফলে তদন্তে কয়েকটি প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পাবে—প্রাণঘাতী ওষুধ শরীরে ঠিকভাবে প্রবেশ করেছিল কি-না, শিরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি-না, প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি-না এবং দ্বিতীয় ডোজের পর কেন প্রত্যাশিত ফল পাওয়া গেল না।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ বছর টেনেসিতে এর আগেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। মে মাসে টনি কারাদার্সকে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রয়োজনীয় শিরা খুঁজে না পাওয়ায় প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হয়েছিল। ফলে একই বছরে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটায় টেনেসিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে, তবে পাইকের ঘটনা আলাদা

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার নজির রয়েছে। ১৯৪৬ সালে লুইজিয়ানায় উইলি ফ্রান্সিস বৈদ্যুতিক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ডের প্রথম প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে যান। পরে আদালত দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ বন্ধ করেনি এবং পরবর্তী প্রচেষ্টায় তার মৃত্যু হয়। ২০০৯ সালে ওহাইওতে রোমেল ব্রুমের ক্ষেত্রেও প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।

এক্ষেত্রে ক্রিস্টার ঘটনা আলাদা মাত্রার। কারণ তার ক্ষেত্রে দুই ডোজ প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও তিনি জীবিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এটিকে অত্যন্ত বিরল এবং নজিরবিহীন পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

১৯৯৫ সালের সেই হত্যাকাণ্ড

ক্রিস্টা পাইককে ১৯৯৫ সালে তার সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তার বিরুদ্ধে করা মামলায় হত্যার সঙ্গে তার তৎকালীন প্রেমিকও জড়িত ছিলেন বলে আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। পাইক হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেননি।

এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো। ফলে পাইকের মামলাটি আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার বিষয় ছিল।

এখন সেই মামলায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। তিন দশক আগে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়েছে, কিন্তু তাতেও মৃত্যু হয়নি। ফলে ক্রিস্টা পাইকের শারীরিক অবস্থা, তৃতীয় পক্ষের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয়ই এখন তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

সূত্র : রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক পোস্ট

এই শাখার আরও খবর

চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাও, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) ‘বিবেকানন্দ মিশন…

মমতার নন্দীগ্রামের পায়ের চোট ‘ভুয়া’, প্রমাণের দাবি শুভেন্দুর

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে লাগা চোট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ওই চোটের ঘটনা…

সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে কোনো অপশক্তি সফল হবে না: ফরহাদ হোসেন আজাদ

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করলে কোনো অপশক্তি সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। শনিবার (৩ অক্টোবর)…

ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে ইট নিক্ষেপের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি হিন্দু মন্দিরে ইট নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (HAF) জানিয়েছে, রিচমন্ড হাইটসের শ্রী স্বামীনারায়ণ ভাদতাল ধাম হিন্দু মন্দিরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা…

বাংলাদেশে হিন্দু সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধন, নতুন সুযোগ পেলেন নারীরা

বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে ছেলে থাকলে মেয়েদের পারিবারিক সম্পত্তিতে সরাসরি উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। তবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নতুন একটি আইনি সুযোগ তৈরি করেছে সরকার।…

‘সত্যকে পিষে ফেলা হচ্ছে’, আন্দোলনগুলোর তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে আনতে রাহুলের ‘সত্যাগ্রহ’

দেশজুড়ে বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রতিবাদকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনতে ‘সত্যাগ্রহ’ নামে নতুন একটি ওয়েবসাইট চালু করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সাধারণ মানুষের আন্দোলনের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au