হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযান শুরু হতে পারে। অভিযানে স্থলভাগে…
চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ফার্মিক স্টিল লিমিটেড কারখানায় ফার্নেসের ত্রুটিতে গলিত লোহা ছিটকে দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বরের ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন। অপর আহত শ্রমিক জুয়েল (৩৬) বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং (৫৩), শ্রমিক শরিফুল ইসলাম (২৭) ও মনির হোসেন (২৭)।
নিহতদের মধ্যে সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং। এর আগে ১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরিফুল ইসলাম।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার দিন ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনির হোসেন।
কারখানা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত ফার্মিক স্টিল লিমিটেডের ফার্নেসে ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় ফার্নেস থেকে গলিত লোহা ছিটকে পড়লে সেখানে থাকা চারজন দগ্ধ হন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যাওয়ায় গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
পরে অবস্থার অবনতি হলে শ্রমিক শরিফুল ইসলাম ও চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হংকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত শরিফুল ইসলাম খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার পরিবারে রয়েছে দুটি ছোট সন্তান। ছেলের মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা মো. সেলিম।
শরিফুলের পরিবারের পক্ষ থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে। এ নিয়ে ফার্মিক স্টিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শনিবার সন্ধ্যায় ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জোরারগঞ্জ থানায় শরিফুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফার্মিক স্টিলের চীনা ও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে দোভাষীর মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
শরিফুলের বাবা মো. সেলিম বলেন, ছেলেকে হারিয়ে তাদের পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। মামলা পরিচালনা করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। তাই তারা মামলা করতে চান না, বরং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চান।
তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা এখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
এদিকে দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে পুলিশ। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজন মারা গেছেন।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করা হলেও পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এটি কোম্পানি ও ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যকার বিষয়। পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
দুর্ঘটনায় একদিকে চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, অন্যদিকে আরেক শ্রমিক এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ অবস্থায় দুর্ঘটনার কারণ, কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এ ঘটনায় পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে নিহত শ্রমিক শরিফুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au