কুমিল্লাজুড়ে মাদকের ভয়াবহ থাবা, ২০০ হটস্পটে চলে বেচাকেনা
কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে দেদারছে ঢুকছে মাদক। পরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। জেলার ১৮টি থানায় অন্তত ২০০টি হটস্পটে চলছে মাদক কেনাবেচা। সীমান্তের অর্ধশতাধিক পথ ব্যবহৃত…
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)। এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসের বকেয়া বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা নির্ভর করবে নতুন কাঠামোয় তাঁর বেতন নির্ধারণের ওপর।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশনের কাজ শেষ করতে বলেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এসব তথ্য যাচাই করবে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়।
পে ফিক্সেশনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও যাচাই করতে হবে।
কোনো চাকরিজীবী পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সেসব তথ্যও দিতে হবে। এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে পুরোনো রেকর্ডের মিল থাকা জরুরি। তথ্যের গরমিল থাকলে পে ফিক্সেশনে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরও প্রয়োজন হবে। যাঁদের এনআইডি নেই, তাঁদের চাকরির নথিতে থাকা জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য হালনাগাদ করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।
নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য এবং বেতন কার্যকরের তারিখের ভিত্তিতে বকেয়া হিসাব করা হবে। ফলে সব সরকারি চাকরিজীবী সমান অঙ্কের বকেয়া পাবেন না।
গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের বেতন কার্যকরের হার—এসবের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে। পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন বিল এবং বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হবে।
১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
তবে পুরো বর্ধিত বেতন একবারে কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই হার যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে।
নতুন কাঠামোয় আগের বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই পদে আগে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে ওই পদে নতুন করে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্তির পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে।
এ কারণে ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের পে ফিক্সেশনে বর্তমান বেতনের পাশাপাশি আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও যাচাই করা হবে।
অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য ও নথিতে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ, শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশনের কাজ শেষ হবে না।
প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের অধীন এসপিএফএমএস কর্মসূচির আওতায় এ প্রশিক্ষণ চলছে।
সব মিলিয়ে নতুন বেতনকাঠামোর বাস্তব সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আগামী ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের পে ফিক্সেশনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। চাকরিজীবীদের পুরোনো বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au